গাজীপুর যুবদলের পর শিগগিরই অঙ্গ সংগঠনের কমিটি

গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরছে চাঞ্চল্যতা। ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে জেলা ও মহানগর মহিলাদলের কমিটি গঠন করা হয়। অচিরেই মূল সংগঠন বিএনপি ছাড়াও ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্য অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে জেলা ছাত্রদলের এক কমিটিতে প্রায় দেড় যুগ পার হলেও নতুন কমিটি করা হয়নি। ফলে নতুন নেতৃত্বও গড়ে উঠছে না। এতে করে সরকারবিরোধী বা দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকলেও গাজীপুরে তেমন কোনো আন্দোলন নেই। এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও মহানগর বিএনপির কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি বিএনপি। অপরদিকে জেলা বিএনপিরও মেয়াদোত্তীর্ণ দীর্ঘদিনের।

জানা গেছে, গাজীপুরে প্রায় ১৬ বছর পরে যুবদলের নতুন দুটি কমিটি (জেলা ও মহানগর) নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে অন্য কমিটি গঠনের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। কমিটি গঠনে একই অঞ্চলের নেতাদের আধিক্য যাতে না থাকে এবং বিতর্কিতরা যাতে কমিটিতে স্থান না পান সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। যুবদলের পর এবার স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সদ্য ঘোষিত মহানগর যুবদল কমিটির মতো জটিলতার কারণে সহসাই স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান বিকি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদারের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী অঞ্চল দলিল লেখক সমিতির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ভেন্ডার ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য হাসিবুল হাসান মুন্নার কথা শোনা যাচ্ছে।

সদ্য ঘোষিত মহানগর যুবদলের কমিটিতে টঙ্গী অঞ্চল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করায় অন্যান্য অঞ্চলে বিরাজমান ক্ষোভ বিরাজ ও দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষোভ প্রশমনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে যুবদলের কমিটির অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বাকি অঞ্চলের নেতাদের সমন্বয়ে পূরণ করার আভাস পাওয়া গেছে। আগামীতে অন্য কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যাতে এ ধরনের বৈষম্য না হয় সে ব্যাপারেও দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী যথাক্রমে আরিফ হোসেন হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর আলম ভেন্ডার টঙ্গীর বাসিন্দা হওয়ায় আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে তাদের যে কোনো একজন মহানগর কমিটি থেকে বাদ যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন হাওলাদার আবারো কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন, এমন আলোচনা শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নগরীর পূবাইল অঞ্চলের অধিবাসী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান বিকিকে সভাপতি ও টঙ্গীর অধিবাসী জাহাঙ্গীর আলম ভেন্ডার অথবা জয়দেবপুর থেকে হাসিবুল হাসান মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন এবং একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন এমন নেতাদেরই কমিটিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এক্ষেত্রে নজরুল ইসলাম খান বিকি, আরিফ হোসেন হাওলাদার ও জাহাঙ্গীর আলম ভেন্ডার বহু রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়ে একাধিকবার জেল খেটেছেন।

গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শিগগিরই গাজীপুরে একটি শক্তিশালী কমিটি দিতে যাচ্ছেন তারা।

দেড়যুগ আগে হান্নান মিয়া হান্নুকে সভাপতি ও সরাফত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হয়। এর পর থেকে ছাত্রদলের নতুন কোনো কমিটি গঠিত হয়নি। সভাপতি হানান মিয়া হান্নু সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর দুটি নির্বাচনেই মহানগরের প্রাণকেন্দ্র ২৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে সরাফত হোসেন ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবু তারা দলীয় পদ ছাড়ছেন না। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। যা সদ্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর প্রচারণা ও ভোট সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে বলে এলাকায় আলোচনায় রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এএএম