গাজীপুরে মেয়রের চেয়ারে কে বসছেন, মান্নান নাকি কিরণই!

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। কে বসছেন মেয়রের চেয়ারে! ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ নাকি নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান। আর এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কাজ-কর্মে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত ১৩ এপ্রিল উচ্চ আদালত মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই এই অবস্থা দেখা দিয়েছে। আর এ আদেশের সার্টিফাইড কপি গত বুধবার নগর ভবনে আসায় কে মেয়রের চেয়ারে বসছেন, তা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে জল্পনা চলছে।
জানা গেছে, উচ্চ আদালত মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে দেয়া সরকারের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন এবং ওই আদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন। ওই রুলের বিরুদ্ধে সরকার পরদিন আপিল করেন। গত ১৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের আদেশে মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে নি¤œ আদালত থেকে জামিন নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ইতিপূর্বে অন্যান্য মেয়রদের ক্ষেত্রে এই ধরনের আপিল নো অর্ডার দিয়ে খারিজ করার ফলে একাধিক জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব ফিরে পান। ফলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মান্নানকে চেয়ারে বসতে না দেয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এদিকে গত ১৩ এপ্রিলের পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র নগর ভবনে না যাওয়ায় মেয়রের কক্ষ বন্ধ রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত মেয়রও আগের মতো অফিসে আসছেন না। আর মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানও আইনি জটিলতায় চেয়ারে বসতে পারছেন না। ফলে নগর ভবনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ আপিল করার জন্য ব্যস্ত রয়েছেন। আর মেয়র অধ্যাপক মান্নান সবাইকে জানিয়ে নগর ভবনে আসছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী জোনে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ দুপুর ১টা থেকে অফিস করেছেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধির সঙ্গেও কথা বলেন। অপরদিকে টঙ্গী জোনের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, সব ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ডে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের স্বাক্ষর না নেয়ার জন্য মৌখিকভাবে বলেছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রাহাতুল ইসলাম বলেছেন আগামী ২৫ এপ্রিলের পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আইনি কোনো সমস্যা নেই। কারণ সরকারপক্ষ মেয়র মান্নানের হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
২০১৩ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতা অধ্যাপক এমএ মান্নান সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচিত হন। বিএনপির আন্দোলনের সময় বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক এমএ মান্নানকে ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএসের বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট প্রথম দফায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সে আদেশ ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট স্থগিত করে। ১৩ এপ্রিল আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকে। এরপর দায়িত্বে ফেরার আগেই ওই বছরের ১৫ এপ্রিল অধ্যাপক এমএ মান্নানকে ফের গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৮ এপ্রিল তাকে দ্বিতীয় দফায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি অধ্যাপক মান্নান উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান। অধ্যাপক মান্নানের অবর্তমানে ২০১৫ সালের ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.