গতি পেয়েছে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প

গতি পেয়েছে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বান করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (সিএ)। আগামী মার্চ মাসের ১৯ তারিখে দরপত্রটি খোলা হবে। তারপর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করতে শুরু হবে পরবর্তী কার্যক্রম। প্রায় ৭০ হাজার পৃষ্ঠার দরপত্রের কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মাস কয়েক সময় লাগবে বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গতবছর এপ্রিলে এ প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু মামলার কারণে প্রকল্পের কাজ ঝুলে পড়ে। মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় এর কাজে গতি এসেছে। থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। চলতি বছরের একেবারে শেষ দিকে টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। সে হিসাবে ২০২৩ সালে নতুন টার্মিনালটি ব্যবহারের জন্য চালু হতে পারে।

সাবেক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ১১ জুন প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বেবিচক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- জাপানের নিপ্পন-কয়োই ও ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্ট এবং বাংলাদেশের ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড।

সেসময় সাবেক বিমানমন্ত্রী বলেছিলেন, ২০১৮ সালের এপ্রিলে থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হবে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের সফট ওপেনিং এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে নির্মাণ শেষ হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব মোকাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, টার্মিনাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়ার পর থেকে সময় গণনা শুরু হবে। ওই সময় থেকে ৪৮ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

অপেক্ষাকৃত ছোট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। এটি এখন চাহিদার অতিরিক্ত যাত্রী ধারণ করছে। বিদ্যমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়। এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চলতি মাসে দরপত্র খোলার সময় নির্ধারিত থাকলে দরপত্রের সময়সীমা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী মাসের (মার্চের) ১৯ তারিখে সেটি খোলা হবে। আধুনিক এই টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হবে ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সরকারের বৃহৎ এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। মোট টাকার মধ্যে এই প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন হচ্ছে দুই হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। বাকি অর্থের পুরোটাই দেবে জাইকা।

এ ব্যাপারে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান জানান, গতবছর সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত দরপত্র জমা নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন টার্মিনাল থেকে বর্তমান ভিভিআইপি গেটের বিপরীতে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে একটি সাবওয়ে (আন্ডারপাস) যুক্ত হবে। এই সাবওয়ের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনাল থেকে যাত্রীরা গাড়ি নিয়ে সরাসরি চলে যেতে পারবেন এক্সপ্রেসওয়েতে। এতে সময় বাঁচবে, যানজটেও পড়তে হবে না।

বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় টার্মিনাল ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাইকা। থার্ড টার্মিনাল ভবনের আয়তন হবে দুই লাখ ২৬ হাজার বর্গমিটার। এ টার্মিনাল ভবন তৈরি করতে গিয়ে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে কার্গো ভিলেজ। এটির আয়তন হবে ৪১ হাজার ২০০ বর্গমিটার। থার্ড টার্মিনাল হবে একেবারে আধুনিক।

মানবকণ্ঠ/এসএস