গণমাধ্যমগুলো নিমার্তাদের ঠিকাদার বানিয়ে দিয়েছে : মাসুদ হাসান উজ্জ্বল

নাট্য, বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও সংগীত পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল বিনোদন সংবাদ প্রচার প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম-এ যে প্রক্রিয়ায় বিনোদন সংবাদ প্রচার হয়, তা ক্রমেই নিমার্তাদের নায়ক নায়িকার ঠিকাদার র বানিয়ে দিচ্ছে। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে শিল্পের মান আর শিল্পের জায়গায় থাকবে না। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রতি সমাজের যে একটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সেটাও থাকবে না। তারা চলে আসবে সাধারণ সারিতে। কারণ, তারতো সঠিক জায়গাতে থাকার জন্য পরিকল্পক লাগবে, পরিচালক লাগবে, লেখক লাগবে। এগুলো যদি উপেক্ষিত হতে থাকে যদু-মধু কদুদের পরিচালনায় কাজ করে নায়ক নায়িকারা প্রচারণায় থাকতে থাকতে একসময় দেখবে ঝুলিতে কিছু নেই।

মাসুদ হাসান উজ্জ্বল মানবকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে আরো বলেন – হাতেগোনা দুএকজন পরিচালক ছাড়া আর কোন পরিচালককেই খুব একটা গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হয়না । আমি সাধারণত কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করিনা , তথাপি আমার অভিজ্ঞতায় আছে – আমার কাজে অভিনয় শিল্পী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন , কিন্তু শিল্পী এবং পত্রিকা উভয়েই পরিচালকের নাম উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছে ! লক্ষ করে দেখলাম মিডিয়াতে এক ধরণের দাদাগিরি প্রচলিত রয়েছে । নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করতে হলে আপনাকে সেই দাদাগিরির চর্চাকরতে জানতে হবে , অন্যথায় আপনি সর্বতভাবে উপক্ষিত রয়ে যাবেন ! আরেক প্রক্রিয়া রয়েছে , সে হলো কোন না কোন ভাবে বিতর্কের জন্ম দেয়া ।

বিতর্ক থেকে পরিচালকরা সহসাই আলোচনায় আসতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘বিতর্ক থেকে পরিচালকরা সহসাই আলোচনায় আসতে পারেন। এখন আমার কি তাহলে দুই দিন পর পর বিতর্কের জন্ম দিতে হবে?’

সম্প্রতি ‘নোটস’ শিরোনামের একটি টেলিফিল্ম-এর শুটিং শেষ করলাম। নোটস-নিয়ে আপাতত কথা বাড়াতে চাই না। ধরেন আমি একটা পরিকল্পনা করেছি, বাংলাদেশে নারী মিউজিক কম্পোজার নাই, মিউজিকের মতো এতো বড় একটা জায়গায় নারী কম্পোজারের যে শূণ্যতা তৈরি হয়ে আছে-তা নোটিশ করতে চাই। এটা আমার দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতা দিয়ে সামনে নিয়ে আসতে চাই। এখন প্রশ্ন আসে, তাহলে আমি লোকটা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলাম না ! এই ভাবনাটা আমি না ভাবলে আপনার প্রিয় নায়কনায়িকা প্যানপ্যান করে সেই একই কাসুন্দি আউড়ে যেত !’

গণমাধ্যমের নাম প্রকাশ না করে এই নাট্য নির্মাতা বলেন, ধরে নেন, এরপরে দেখা গলো আমার সাথে কথা না বলে প্রথম সারির গণমাধ্যম ‘নোটস’-কে নোটিশ” লিখেছে। আবার নোটস-এ কাজ করা একজন অভিনেতার সাথে কথা বলে লোকেশন ‘নেপাল’ লিখে দিয়েছে। অথচ আমি নোটস-এর নির্মাতা। আমি বাংলাদেশে। এখন আমি কি বলবো, কি আশা করবো?

মানবকণ্ঠ/আরএস