গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক

বার্নাদেতি কোল তার বই গধংং গবফরধ ঋৎববফড়স ধহফ উবসড়পৎধপু রহ ঝরবৎৎধ খবড়হব- এ গণতন্ত্রের একটি কাজ চালানো সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং মিডিয়ার সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেছেন। কোলের ভাষায়, গণতন্ত্রের ধারণা প্রথম বহু-ব্যপ্তভাবে পরিব্যাখ্যা যেমন বহুদলীয়, বহুবাচনিক কিংবা রাজনৈতিক উদারনৈতিকতা ইত্যাদি। সংজ্ঞা যাই হোক না কেন গণতন্ত্রের মূল কথা হলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা যা নির্দিষ্ট সময়ান্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়।
কোলের প্রশ্ন হলো একটি নির্বাচনের মধ্যে কী সময়ে কী ঘটে? কীভাবে সরকার জনসাধারণের জিম্মাদার হিসেবে জবাবদিহিতা করে। আর সব বিশেষজ্ঞের মতো কোলের জবাব হচ্ছে- ‘গণমাধ্যম’ কীভাবে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং কীভাবে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে গণমাধ্যম প্রত্যহিকভাবে সেগুলো খতিয়ে দেখতে পারে।
মার্কিন সাংস্কৃতিক অধ্যয়নের প্রথম সারির পণ্ডিত জেমস ক্যারে দোকান যে, গণমাধ্যম সমাজের জন্য এক জটিল কাজ করে থাকে। ক্যারে মনে করেন, প্রতীক ভাষা এবং এগুলো যারা তৈরি করে তারা কেবল বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটায় না, বাস্তবতা নির্মাণ করে।
নেয়াম চমস্কির প্রপাগান্ডা মডেলের কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য হলো- পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মিডিয়া অনিবার্যভাবেই শাসকশ্রেণির হাতিয়ার এবং মিডিয়াকে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন ভাবার কোনো ভিত্তিই নেই। এই মডেল অনুযায়ী মিডিয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শাষিতদের সম্মতি উৎপাদনে অনিবার্যভাবেই ক্ষমতাশীল শাসক- এলিট শ্রেণিকে সক্ষম করে তুলতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে থাকে এবং এভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।
নোয়াম চমস্কি এবং এডওয়ার্ড হারম্যান তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কন্টেন্ট বইতে বলেন, ‘আমেরিকায় কোনো বিষয়ে রিপোর্টিং পাঁচটি বিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যথা: (১) মালিকানা (২) বিজ্ঞাপন (৩) দাফতরিক উৎসসমূহ (৪) বহিরাক্রমণ প্রতিরোধ কৌশল এবং (৫) ভাবাদর্শ।
গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য উপাদান, বলা হয় গণমাধ্যম গণতন্ত্রের মেরুদণ্ড। গণমাধ্যম বাহিত হয়ে রাজনৈতিক তথ্য ভোটারদের কাছে পৌঁছায় এবং এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা তাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করে এবং এ সংক্রান্ত আলাপ-আলোচনার প্রচার প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে গণমাধ্যম জনসমক্ষে তুলে ধরে। আর এ কাজ করার জন্য সমাজের ওপর নজরদারি করার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে। তাহলে যুক্তি দেখানো যায় যে, এ সব কাজ করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট পরিমাত্রা বজায় রাখে এবং গণতান্ত্রিক সমাজ এমন একটি নির্দিষ্ট অনুমিতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গণমাধ্যমের কাছে গণতন্ত্র একটি বহুল কাম্য বিষয়। রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য গণম্যাধ্যম অনেক রকম কাজ করে এবং বহু ধরনের সেবা সরবরাহ করে থাকে। গণমাধ্যম ডেস্ক