গণআন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই: নজরুল

গণআন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই: নজরুল

আলোচনা ও সংলাপে সরকারের আচরণ পরিবর্তন হচ্ছে না, এ ক্ষেত্রে গণআন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় দেখছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, সরকারের আত্মরক্ষার জেদের কারণে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত কোনো পরিবর্তন তিনি দেখতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির এক সংহতি সমাবেশে নজরুল ইসলাম এ কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশ হয়। সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অস্বাভাবিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যে গণতন্ত্র, সুশাসন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বারবার ধূলিসাৎ করে। বারবার ক্ষমতাসীনেরা ও তাদের প্রধান সহযোগী জাতীয় পার্টি গণতন্ত্র হরণ করেছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সেই গণতন্ত্র লড়াইয়ের আন্দোলনে নেমেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই প্রথম গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা বলে সংবিধানের বাইরে চলা যাবে না। সংসদ বিলুপ্ত করে তফসিল ঘোষণা করার কথা সংবিধানেই বলা আছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনে আসেন। এটা সংবিধানের বাইরের কিছু না। ইভিএমের কথা সংবিধানের কোথায় লেখা আছে? সেনাবাহিনী নিয়োগে বাধা সংবিধানের কোথায় বাধা দেয়া হয়েছে?’

তিনি বলেন, ‘এই গণতন্ত্রহীনতার যে সংস্কৃতি তা অতিক্রম করতে রাজপথে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।’

সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখার বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা বলে, সেনাবাহিনী শহরে কোনো একটা স্টেডিয়াম বা মাঠে ভোটের সময় তাঁবু গেড়ে বসে থাকবে। রিটার্নিং অফিসাররা চাইলে তারা গিয়ে নির্বাচনী কাজে সহযোগিতা করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের অনুগত হন, তারা কেন বলবে? সেনাবাহিনী তাঁবুতে থাকবে, আর এই সুযোগে তাদের গুণ্ডাপাণ্ডা আর পুলিশ দিয়ে সিল মারবে, এর নাম স্ট্রাইকিং ফোর্স। বরং সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের প্রত্যক্ষ কাজে অংশ নিতে দিলেই জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে আসতে পারবে। এতে করে সরকারের জেতার কোনো সম্ভাবনা নাই।’

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আরো উন্নত চিকিত্সা দরকার মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিত্সকেরা বলছেন, উন্নত চিকিত্সা না হলে বিএনপি চেয়ারপার্সন পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন, অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। সরকার কী সেটাই চায়? তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার ব্যক্তিগত চিকিত্সকেরা জানতেই পারলেন না।’ আজ হোক কাল হোক, সরকারের প্রত্যেকটা কাজের হিসাব জনগণের কাছে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক রহমান, আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, অর্থ সম্পাদক আল আমিন, লেবার পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র মিশনের যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.