খোশ আমদেদ মাহে রমজান : মাগফিরাতের দশক

মুহম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস :
আজ ১১ রমজান। আজ থেকে শুরু হলো মাগফিরাতের দশক। দেখতে দেখতে একটি দশক অতিক্রান্ত হয়ে গেল।
রোজাদাররা আল্লাহর মেহমান। সেই মেহমানদের জন্য পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ বিশেষ নিয়ামত। সত্যই এ নিয়ামতের কথা বর্ণনা করে শেষ করা যায় না।
হজরত আবু হুরাইরাহর (রা.) বর্ণনা একটি হাদিস এখানে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এটি জীবন-জীবিকা ও মালিক-কর্মচারী সংক্রান্ত। হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, তার উম্মতকে মার্জনা করা হয় রমজান মাসের শেষ রাত্রে।’ জিজ্ঞাসা করা হলো- ইয়া রাসুলুল্লাহ, তা কী শবে কদর?’ প্রিয় নবী (সা.) বলেন- না। বরং এই কারণে যে, কর্মচারীর বেতন দেয়া হয় যখন সে কাজ শেষ করে।- আহমদ, মিশকাত।
উল্লেখ্য, এখানে রমজান মাসের শেষ রাতের একটি নিয়ামতের সংবাদ দিয়ে কর্মচারীদের সময়মতো বেতন পরিশোধ করার তাকিদ দেয়া হলো। বলাবাহুল্য, একজন মুসলমানের জন্য এটি একটি মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটা যারা ঠিকভাবে পালন করেন, রমজানের শেষ রাতে তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে।
অন্য এক হাদিসে রমজান মাসের আমলের কথা বলা হয়েছে। আবদুল্লাহ বিন আল আম বিন আমর বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে উমর, তুমি নাকি দিনে রোজা রাখ এবং রাতে দাঁড়িয়ে (নামাজে) থাক? আমি বললাম হ্যাঁ, তিনি (সা.) বললেন, রোজা রাখ এবং ইফতার কর, রাতে দাঁড়িয়ে (নামাজে) থাক এবং নিদ্রা যাও, কারণ তোমার শরীরের প্রতি কর্তব্য রয়েছে। যে ব্যক্তি সর্বদা রোজা রাখে সে কখনো রোজা রাখেনি। প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখাই প্রতি মাসে রোজা রাখার সমান। অতএব, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখ (এ কথা রমজানের রোজা সম্পর্কে প্রযোজ্য নয়)। আমি বললাম, এর চেয়েও বেশি পারি।’ তিনি বললেন, রোজা রাখ, তবে উত্তম রোজা হজরত দাউদের। একদিন রোজা, একদিন ইফতার। প্রতি সপ্তাহে এক রাত জেগে নামাজ পড় এবং এর অতিরিক্ত কোরো না। -শায়খান।
বলাবাহুল্য, ইসলাম হলো মানুষের ধর্ম, মানব প্রকৃতির ধর্ম। নিজের জীবন, সংসার, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-প্রতিবেশী, মুসাফির- এক কথায় পৃথিবীর সব কিছুর প্রতিই নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ধর্ম। তাই সেখানে বাড়াবাড়ির কোনো স্থান নেই।
এ ছাড়া আরো একটি হাদিস এসেছে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আসের বর্ণনায়। মহানবী সা. বলেন, নবী (সা.) দাউদ (আ.)-এর (একদিন বাদে একদিন) রোজার কথা উল্লেখ করে বললেন- তিনি (দাউদ আ.), যখন শত্রুদের মোকাবিলা করতেন তখন পলায়ন করতেন না। একথা শুনে আবদুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (সা.)! হায়, কে আমাকে সেই শক্তি দেবে? নবী (সা.) পুনরায় বললেন, যে ব্যক্তি চিরকাল রোজা রাখে তার রোজা হয় না।
ইসলাম যে জীবনের ধর্ম, জীবনবোধের ধর্ম, পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার ধর্ম এ হাদিস থেকে সে কথা আরো একবার প্রমাণ হয়। -চলবে