খুলনা সিটি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির

খুলনা সিটি নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির

বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এসময় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগও দাবি করেন।

রিজভী বলেন, ভোট-ডাকাতি, ভোট-সন্ত্রাস, জাল ভোট, ভোটকেন্দ্র দখল, অবৈধ অস্ত্রের আস্ফালন ছাড়া আওয়ামী লীগের বিজয়নিশানে হাওয়া লাগে না। খুলনা সিটি নির্বাচনে নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন হয়েছে।

রিজভীর অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ্য নেই, যোগ্যতাও নেই। নির্বাচনে এক নজিরবিহীন ভোট-ডাকাতির দক্ষযজ্ঞ জনগণ প্রত্যক্ষ করল। ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকেরা যেভাবে নিগৃহীত হয়েছেন, তা কোনো সুস্থ নির্বাচন পদ্ধতি হতে পারে না।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মঙ্গলবার ভোট শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার লজ্জায় গণমাধ্যমের সামনে না এলেও ইসি সচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন, খুলনায় চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। উনি ঠিকই বলেছেন, উল্লিখিত ভোটের পরিবেশই হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন। যে নির্বাচনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে বাবার সঙ্গে ভোট দিতে পারে, কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়। কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জাল ভোটের উৎসব চলে, সে রকম নির্বাচনকে তো ‘চমৎকার’ বলবেনই নির্বাচন কমিশন।

রিজভীর দাবি, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৬৫ শতাংশের ওপরে বললেও মূলত সেখানে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম -মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/এসএস