খুলনা আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে

খুলনা শাখা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবারো অশনি সংকেত বেজে উঠেছে। দলের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা অপর দুজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে জীবনহানির আশঙ্কায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা এই তিন জনের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে এক সময় দলের শীর্ষ পর্যায়ের ও কেন্দ্রীয় নেতা হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তবে একজন মামলার চার্জশিট থেকে বাদ পড়েন। একজন ওই মামলায় এখনো আসামি হিসেবে রয়েছেন। যা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারে আশঙ্কায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সদর থানা শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি আগামীতে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। যাদের বিরুদ্ধে ডায়েরি করা হয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ করা না হলেও তারাও মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারেন, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে গত শনিবার রাতে থানায় জিডি (জিডি নম্বর-৫০৪) করেছেন। তবে জিডিতে নির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়নি।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, খুলনা চেম্বারের ও যুবলীগের প্রভাবশালী দুই নেতা তাকে মেরে ফেলতে চায়। আলোচিত দুই নেতাই আসন্ন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, খুলনা চেম্বার অব কর্মাসের সর্বশেষ নির্বাচনে দলের কতিপয় নেতার সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ে। বিষয়টি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এমপি মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জিডির বিষয় সম্পর্কে সাইফুল ইসলাম আমাদের কিছু জানায়নি। আমরা সংবাদ মাধ্যমেই জেনেছি। তার উচিত ছিল বিষয়টি আমাদের জানানো। তবে আমরা তার সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

এদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির ঘটনায় নির্বাচনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। খুলনায় দলীয় কোন্দলমুক্ত আওয়ামী লীগ সংগঠন দেখতে চান বলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

দলের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, পদ-পদবি রক্ষার কোন্দলে জড়িয়ে ইতিপূর্বে খুলনায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম, খুলনা চেম্বারের সাবেক সভাপতি এসএমএ রব, যুবলীগের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শহীদ ইকবাল বিথারসহ অনেক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এখনো সেই পদ-পদবির লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস