খালেদা জিয়া কি মানবাধিকারের বাইরে?

সম্রাট আলেকজান্ডারের হাতে বন্দি আরেক সম্রাট পুরুকে আলেকজান্ডার জিজ্ঞেস করেছিলেন বন্দি পুরু, আলেকজান্ডারের কাছে কী চান? জবাবে পুরু বলেছিলেন, আলেকজান্ডার সারাবিশ্বে ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট’ হিসেবে পরিচিত। মহানের কাছ থেকে তিনি মহান কিছুই আশা করেন। আলেকজান্ডার কিছুক্ষণ ভাবলেন। তারপর সসম্মানে মুক্তি দিলেন পুরুকে। চাইলে বন্দি পুরুকে নিয়ে আলেকজান্ডার কিই না করতে পারতেন! করেননি। এ জন্যই তিনি গ্রেট। ইতিহাসে অবশ্য বিপরীত উদাহরণও আছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে হিটলারের নিষ্ঠুরতা স্মরণ করা যেতে পারে। ইতিহাসে হিটলার স্বৈরশাসকদের স্বৈরশাসক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন।

উপমহাদেশের রাজনীতি কি আলেকজান্ডারের মহত্ত্বকে পরিত্যাগ করে হিটলারের নিষ্ঠুরতাকেই আইকন হিসেবে গ্রহণ করল? এই উপমহাদেশের প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির চরিত্র দেখে ভাবাই যায় না মহাত্মা গান্ধীর মতো অহিংস রাজনীতিকের জন্ম এ অঞ্চলে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির কিছু আর অবশিষ্ট নাই এ উপমহাদেশের রাজনীতিতে। মহান কোনো নেতারও অস্তিত্ব নেই। দিন দিন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অধঃপতনই দেখছি কেবল। রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে যে শিষ্টাচার সভ্যতা-ভব্যতা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তাও দেখেছি। যদি কেউ প্রতিদিনের সংসদ পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে তার কাছে শিষ্টাচার সভ্যতা-ভব্যতা উধাও হয়ে যাওয়া নতুন কিছু মনে হবে না। কিন্তু রাজনীতিতে শিষ্টাচার না থাক, রাজনীতিকদের ভাষার ব্যবহারে ভব্যতা-সভ্যতা না থাক, পরস্পরের প্রতি সৌজন্য না থাক, ফাইল ছোড়াছুড়ির মতো যত হঠকারী দৃশ্যই তৈরি হোক, তবু কোথাও একটা ন্যূনতম মানবিকবোধ ছিল বলে বিশ্বাস করতাম। এখন দেখছি তাও নাই। আপনি বলবেন আইন সবার জন্য সমান। বলবেন কারাগারের পরিবেশও সবার জন্য সমান হওয়ার কথা। তাহলে আপনি আপনার দেশের আইনের দর্শনের দিকে তাকান। কোনো আইনই মানবিকতাকে বিসর্জন দিয়ে নয়। নয় বলেই জেল কোড অনুযায়ী সবাই সমান সুবিধা পান না।

কেন সমান সুবিধা পান না? কেন জেল কোড অনুযায়ী আলাদা আলাদা সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থা? বয়সে তরুণ সুস্থ মাদক মামলার আসামি যে সুবিধা পাবেন তিয়াত্তর বছরের অসুস্থ নারী আসামির সুযোগ-সুবিধা তো তা থেকে ভিন্নতর হবেই। কিন্তু যদি আপনি এই সুবিধা প্রাপ্তির বিপক্ষে কারাগার তো সবার জন্য সমান জাতীয় আপ্তবাক্য আওড়ান তাহলে এতকাল ধরে আপনাদের মুখে নারীবাদের মহান যে সব বাণী শুনে আসলাম তা কি কেবল বিশেষ বিশেষ নারীর জন্য? সব নারীর জন্য নয়? এর আগে বহুবার খালেদা জিয়াকে নিয়ে সংসদে বিস্তর অশালীন কথা বলা হয়েছে। কোনো নারীবাদীকে তার প্রতিবাদ করতে শুনিনি। কেন? নারীবাদ কি কোনো কোনো নারীর প্রযোজ্য অথবা অধিকাংশ নারীর জন্য প্রযোজ্য অথবা সবার জন্য প্রযোজ্য, শুধু একজনের জন্য নয়? তিয়াত্তর বছরের অসুস্থ খালেদা জিয়া যিনি নিজের ব্যক্তিগত প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করতে অপারগ, কেন তার সঙ্গে ব্যক্তিগত গৃহকর্মীকে রাখার সুযোগ দেয়া হবে না? তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেত্রী, স্বৈরাচার পতন আন্দোলনের প্রধান নেত্রী এই সবকিছু ছেড়ে দিচ্ছি, একজন বর্ষীয়ান নারী বন্দি হিসেবে এইটুকু মানবিকতাবোধ যদি তার প্রতি দেখানো না হয় তাহলে মানবতাবোধ শব্দটির আর কোনো মানেই থাকে না। এ কথা কেবল খালেদা জিয়ার জন্য বলছি না। কখনো প্রতিপক্ষের প্রতিহিংসায় শেখ হাসিনাকেও যদি এমন বিপন্নতার মধ্যে পড়তে হয় তবে তার জন্যও একই কথা বলব। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির মতো সমাজও হয়েছে সুবিধাপন্থি সমাজ। এখানে যখন বিএনপি ক্ষমতায় তখন সবার বিএনপি সমর্থনের ধুম পড়ে যায়, আওয়ামী লীগের কালে আওয়ামী পন্থি হওয়ার ধুম পড়ে।

দুই. রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অত দূরও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের যে কোনো অশিক্ষিত পরিবারেও তো শিক্ষা দেয়া হয় কানাকে কানা বলতে নেই, খোঁড়াকে খোঁড়া বলতে নেই আবার সুন্দরকে সুন্দর বলতেও কার্পণ্য করতে নেই। রাজনীতিকরা হবেন আমাদের আদর্শ, আমাদের আইকন। তাদের দেখে আমরা শিখব। এখন শেখা তো দূর। সংসদ চলাকালীন টেলিভিশনের সুইচ অফ না করলে বাচ্চারা যে ভাষা শিখবে তা যে পরবর্তী সময়ে কেবল অভিভাবক নয় গোটা সমাজের জন্যই যে বিব্রতকর হতে পারে সে বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন সমাজবিজ্ঞানীরা। তাদের আশঙ্কা সত্য প্রমাণ হয়েছে। ছাত্রলীগ, যারা ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগ নেতা, ৮ ফেব্রুয়ারির রাজপথকে তারা যে কোনো অরাজক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করেছে ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, চোরের মা, চোর গেল কই’ এই মহান স্লোগান দিয়ে। পুলিশ প্রহরায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও আনন্দ মিছিল করেছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করতে এবং জনগণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার জন্য নাকি তাদের এই অবস্থান। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী এত অসমর্থ, এত অক্ষম, এত অপদার্থ, এত অথর্ব যে, জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য ছাত্রলীগকে রাজপথে থাকতে হয়? আমরা তো জানি অস্ত্র থাকে পুলিশের হাতে তা দিয়ে তারা নিরস্ত্রদের রক্ষা করে।

ছাত্রলীগের হাতে কি তবে পুলিশের চেয়েও শক্তিশালী কোনো অস্ত্র থাকে, যে পুলিশের অস্ত্র যা রক্ষা করতে অক্ষম ছাত্রলীগের সেই শক্তিধর অস্ত্র তা রক্ষা করতে সক্ষম? ছাত্রদল এবং যুবদল নেতাদের পুলিশ কীভাবে টেনে-হিঁচড়ে লাঠিপেটা করছে সেই ছবি পত্রিকাগুলোতে ছাপা হয়েছে। পাশেই ছাপা হয়েছে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল এবং মহড়ার ছবি। পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত নথিবদ্ধ হয়ে আছে পত্রিকার পাতায় পাতায়। কবে, কখন, কীভাবে বাংলাদেশের সমাজ থেকে মৌলিক সৌজন্য উধাও হয়ে গেছে টের পাইনি। সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই মানুষের জন্য রাজনীতি করেন বলে দাবি করেন অথচ তাদেরই একজন সহরাজনীতিক যখন বিপদাপন্ন এবং অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েন তখন তারা তার প্রতি ন্যূনতম সৌজন্যও দেখান না। তিয়াত্তর বছরের অসুস্থ খালেদা জিয়া যেদিন কারাগারে গেলেন সেদিনই সংসদে দাঁড়িয়ে সহরাজনীতিকরা তাকে উদ্দেশ করে যে ভাষায় কথা বলেছেন তা ন্যূনতম সৌজন্যের মধ্যে পড়ে না। জাতীয় পার্টির সাংসদ ইয়াহিয়া চৌধুরী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় এরশাদ সাহেব একটি বরই গাছ লাগিয়েছিলেন। সেই গাছে এখন বরই ধরেছে।

খালেদা জিয়াকে সেই বরই খেতে দেয়া হোক। এই কথার মাধ্যমে ইয়াহিয়া চৌধুরী আসলে কী বোঝাতে চাইলেন? তিনি এক মহা হিউমারাস বাক্য প্রসব করেছেন? যে বাক্য আদ্যোপান্ত নিষ্ঠুরতা এবং অসৌজন্যে ভরপুর তা কখনো হিউমার বা উইটি (বাকবৈদগ্ধ) হয় না। নব্বইয়ের দশকে এরশাদকে কারাগারে নেয়ার সিদ্ধান্ত সব দল মিলেই নিয়েছিলেন। এখন এরশাদকে কারাগারে পাঠানোর দায় এককভাবে খালেদা জিয়ার ওপর চাপানো তো হচ্ছেই উপরন্তু এমনভাবে তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে যেন বিনা অপরাধেই কেবল প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এরশাদকে জেলে পাঠিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ঠিক যে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, জীবিত নয়, যে এরশাদ কারাগার থেকে বের হবেন তিনি মৃত। কিন্তু এমন কথা কেন বলেছিলেন খালেদা জিয়া? এরশাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দেবর-ভাবীর মনোজ্ঞ রসজ সম্পর্ক নিয়ে তো অন্য নেতারা বহুবার অনেক রসালো কাহিনী ফেদেছিলেন। পরবর্তী-সময়ে কেন এরশাদ সাহেব ভাবীর প্রতি দুর্বলতা পরিহার করে অন্য আরেকটি দলের প্রতি ঝুঁকলেন, কী কারণে ঝুঁকলেন এবং কীভাবে তিনি একে একে সমস্ত মামলা থেকে নিষ্কৃৃতি পেলেন তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে। হত্যা মামলার আসামি জনতা টাওয়ার মামলার আসামি এবং আরো বহু মামলা থেকে এরশাদকে নিষ্কৃতি দানের মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জাতীয় পার্টির এখন বসন্তকাল। সেই যে কবে তাদের বসন্ত শুরু হয়েছিল এরপর যতদিন খালেদা জিয়া এরশাদ সাহেবের রোপিত বরই গাছের বরই খাওয়ার সুযোগ পাবেন ততদিন তাদের বসন্ত চলবে।

তিন. এ রায়ের মাধ্যমে নাকি বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশ। ঋণ দেয়ার বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং হরতাল পালনকারী বিএনপি কর্মীদের ধাক্কায় রানা প্লাজার পিলার ধসে পড়া তত্ত্বের তাত্ত্বিক নেতা, তিনি কীভাবে কমিশন খেয়েছেন এবং তার সুপারিশে ঋণ পরিশোধ না হলেও কী অভিনব কায়দায় তা পরিশোধ দেখানো হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ১১ ফেব্রুয়ারিতে সমকাল। রিপোর্টটিতে দেখা যাচ্ছে, জনাব খান সাহেবের একক সুপারিশে তনুজ কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হয়েছিল পরিচালনা পর্ষদ, ক্রেডিট কমিটি বা ইসি কমিটির অনুমোদন ছাড়াই। গত বছরের ১৯ জুলাই একজন গ্রাহকের একটি মেয়াদি হিসাব থেকে এক কোটি বাইশ লাখ টাকা খান সাহেবের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়। ম.খা সাহেবের নামে আশি লাখ টাকার পে-অর্ডার ইস্যু করে তনুজ কর্পোরেশন। জাহান ট্রেডার্স নামে আরো একটি ঋণের হিসাব থেকে গত বছর ১৯ মার্চ এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকার আরেকটি চলতি হিসাব স্থানান্তর হয় ম.খা সাহেবের একক সুপারিশে। এর কোনোকিছুই ঘষামাজা নথি নয়। যার দল ক্ষমতাসীন এবং কিছুদিন আগেও তিনি যে দলের সবচাইতে ডাকসাইটে মন্ত্রী ছিলেন তার নথিপত্র ঘষে-মেজে শাস্তিযোগ্য করে তুলবে এত সাহস কার আছে? কার ঘাড়ের ওপর দুই মাথা?

এখন সাংবাদিকরা মুহুর্মুহু টেলিফোন করলেও ম.খা. সাহেব ফোন ধরেন না। তার সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে কথা বলা সাংবাদিকদের জন্য দুরূহ এবং অসম্ভব হয়ে উঠেছে। হয়তো এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য সাংবাদিকদের তিনি উপযুক্তই ভাবছেন না। তাছাড়া তার ব্যস্ততার তো সীমা-পরিসীমা নেই। রাষ্ট্রের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আসনে বেপরোয়া ভঙ্গিতে সোফায় গা এলিয়ে তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু সাংবাদিকরা প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়েও তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান না। উন্নয়ন প্রচারকরা বলবেন বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কী আছে? হ্যাঁ, আমরাও তো তা-ই জানি। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কথা বলা যায় না বলেই জানি; তাতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার আগে বহুবার বহুজন ‘খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন’ বলে রায় দিয়ে দিয়েছিলেন। সেটা শুনে শুনে আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম যে বিচারাধীন মামলা নিয়ে কথা বলা যায় না। জনতা ব্যাংকের ঋণ ফেরত আসবে কি আসবে না সে নিয়ে আমরা কিছু বলিনি। স্বয়ং অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে বারকাত সাহেবের অনুমোদনে একজন গ্রাহককে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এভাবেই ধ্বংস হয়েছে ব্যাংকিং সেক্টর। এসব তো আমাদের কথা নয়। আওয়ামী লীগ নিজেই নিজের দলের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিবাজদের তথ্য ফাঁস করছে। তারা এখন নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ হচ্ছে। কেবল ২০১৪ সাল, এই এক বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর একটি টাকাও ফেরত আনা যায়নি। কোনোদিন যাবেও না। কারণ এর সবই জমা আছে সুইস ব্যাংকের নিরাপদ ভল্টে। সুইস ব্যাংকের হিসেবে জমাকৃত সেই টাকার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। খালেদা জিয়ার দুই পুত্রের পাচারকৃত টাকা যার কিছু অংশ ফেরত এনেছে, এই টাকার কাছে তা কিঞ্চিৎই বটে। এতেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে?

চার. সরকার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু সরকারি নেতাদের চারপাশ ঘিরে থাকে হাজার কোটি টাকা পাচারকারী নেতারা। এদের পাশে নিয়ে সরকারের কয়েক কোটি টাকার তেল পুড়িয়ে জনগণের কাছে তারা ভোট চাইতে যান, সরকারি খরচে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশও নাকি প্রস্তুত। একদলের মাথায় আটাত্তর হাজার মামলার বোঝা অন্যদলের হাতে হাজার হাজার উন্নয়ন প্রকল্পের উন্নয়নফলক। বিএনপি নেতারা সকাল-বিকাল কোর্টে হাজিরা দেবেন, মামলা মোকাবিলা করবেন আর আওয়ামী লীগ নেতারা হেলিকপ্টারে চড়ে সামনে পেছনে পুলিশ নিয়ে লালগালিচায় দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইবেন। এর নাম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড! সবলের দোর্দণ্ড অন্যায়কে নীরব পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বিপদাপন্নকে কটাক্ষ করার মধ্যে নিষ্ঠুরতা ছাড়া রুচির সুস্থতার পরিচয় মেলে না। ট্র্যাজেডি এই যে, চিরদিন যে কারো সমান যায় না এ কথা রাজনীতিকরা মনে রাখেন না।

লেখক : কলাম লেখক

মানবকণ্ঠ/বিএফ

Leave a Reply

Your email address will not be published.