খালেদা জিয়ার বক্তব্যে কারো প্রতি আক্রোশ নেই: নজরুল

নজরুল ইসলাম খান

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিরপেক্ষ নির্বাচনের যে দাবি জানিয়েছেন, তার জন্য ‘কারো প্রতি আক্রোশের ব্যাপার নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন নজরুল ইসলাম খান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই মন্তব্য করে বলেন, জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত অভিযোগ করেননি। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা বা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যাবে না। এটা রাজনৈতিক বক্তব্য, এখানে কোনো আক্রোশের ব্যাপার নাই।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ’৭১ এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে দাবি বেগম খালেদা জিয়া জানিয়েছেন এটা স্পষ্টই জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক দাবি। এর সঙ্গে কারো প্রতি প্রতিহিংসা বা আক্রোশের ব্যাপার নেই। দেশনেত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

তিনি বলেন, আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে, সমঝোতার মাধ্যমে দেশে শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার জনসভার পর রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, আজ খালেদা জিয়া যে ভাষণ দিয়েছেন, সেই ভাষণ শেখ হাসিনার প্রতি তার আক্রোশের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সে সময় যে সরকার থাকবে, সেই সরকার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করবে।

এর আগে বিকেলের জনসভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নিতে আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করা এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুর উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন আগের নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি চেয়ারপার্সন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যদি সত্যি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যদি তারা এটা বিশ্বাস করে যে তারা অনেক উন্নয়ন করেছে, জনগণ তাদের ভালোবাসে। তাহলে বেগম খালেদা জিয়া দুটি চ্যালেঞ্জ করেছেন, যে কোনো একটি গ্রহণ করুন। একটা হলো কোনো বাধা না দিয়ে জনসভা করেন। দেখেন কার জনসভায় কত লোক হয়।

সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফউদ্দিন বকুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, সাবেক ছাত্রনেতা আলী আক্কাস নাদিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস