খালেদার মুক্তি আটকে গেল নাশকতার মামলায়

চার শর্তে জামিন পেলেন পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের এ আদেশ দেন। এর ফলে কারাগারে যাওয়ার ৩২ দিনের মাথায় গতকাল মুক্তির পথ তৈরি হলেও তা মিলছে না বেগম জিয়ার। জামিন পাওয়ার পর পরই কুমিল্লার নাশকতার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোস্তাইন বিল্লাহ গতকালই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তিতে একটু দেরি হবে বলে জানালেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা জামিনের বেইল বন্ড পাঠাব এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ করব। এদিকে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আজ চেম্বার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন। এই মামলায় গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে জামিনের বিরোধিতা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল শুনানি শুরুর আদেশ চাইলেও হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করেছেন চারটি যুক্তিতে।

তা হলো- এক. নিম্ন আদালত পাঁচ বছরের যে সাজা দিয়েছে, তুলনামূলকভাবে কম ওই সাজায় হাইকোর্টে জামিনের রেওয়াজ আছে। দুই. বিচারিক আদালতের নথি এসেছে, কিন্তু আপিল শুনানির জন্য এখনো প্রস্তুত হয়নি। ফলে আসামি জামিনের সুবিধা পেতে পারেন। তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে খালেদা জিয়া জামিনে ছিলেন এবং এর অপব্যবহার করেননি। আদালতে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন। চার. বয়স এবং বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে জামিন দেয়া যায়।

এসব যুক্তিতে খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্ট বলেন, এই সময়ের মধ্যে আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরি করতে হবে। পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গেলে যে কোনো পক্ষ শুনানির জন্য আপিল উপস্থাপন করতে পারবেন। হাইকোর্ট বলেন, খালেদা জিয়া বয়স্ক নারী। তার শারীরিক নানা জটিলতা আছে। এসব বিবেচনা করে তাকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়া হলো।

হাইকোর্টের আদেশের পর পরই জামিনের এই আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী আবদুর রেজাক খান। তিনি বলেন, বিচারিক নিয়মে জামিন হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। তবে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চাইবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করা হবে। তবে কবে নাগাদ দুদক আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে যাবেন সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। অবশ্য আদেশের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিনে মুক্তি পেতে বাধা নেই। কেননা তাকে কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের আদেশ দু’দিনের জন্য স্থগিত চেয়েছিলেন। কিন্তু সেটি আদালত বিবেচনায় নেননি।

এদিকে খালেদার জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ইতিমধ্যে আপিলের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, আমরা আপিল ফাইলের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি আগামীকাল (আজ) আমরা জামিনের বিরুদ্ধে আপিলে যাব। অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘আমরা জামিনের আদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। এ সময় আপিলের প্রস্তুতি নিতে পারতাম। কিন্তু আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেননি।

এর আগে দুপুর ১টার পর থেকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে বিচারকক্ষ। একপাশে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, অপরপাশে খালেদা জিয়ার প্রায় কয়েকশ’ আইনজীবী আদালত কক্ষে উপস্থিত হন। তবে আদালত এজলাসে ওঠার আগেই এক বেঞ্চ অফিসার আইনজীবীদের ডেকে এই বলে সতর্ক করে দেন- আদালত বলেছেন আপনারা হই চই করবেন না। তাহলে বিচারক এজলাসে উঠবেন না। পরে খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সহকর্মীদের কোনো হই চই বা শব্দ না করার জন্য সতর্ক করে দেন। এরপর দুপুর ২টা ১৪ মিনিটে এজলাসে আসেন বিচারপতিরা। তখন বিচারকক্ষে থাকা কয়েকশ’ আইনজীবী পিনপতন নীরবতা বজায় রেখে আদেশের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। শুরুতেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, আপনারা কিছু বলবেন কি? এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, মাই লর্ড (মামলাটি) শুনানি শেষে আদেশের জন্য (অপেক্ষায়) রয়েছে। জবাবে আদালত বলেন, আপনারা তো অনেক বই নিয়ে আসলেন; কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন।

এ সময় আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, মি. অ্যাটর্নি, আপনি কিছু বলবেন? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল দাঁড়িয়ে বলেন, মাই লর্ড, এটি একটি সেনসেশন (স্পর্শকাতর) মামলা। এ মামলার নথি ইতিমধ্যে এসে গেছে। আদালত বলেন, কি ধরনের সেনসেশন মামলা? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটি একটি দুর্নীতির মামলা। এখানে এতিমের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আত্মসাৎ হয়েছে। নথিতে সব পরিষ্কার, কিভাবে টাকা আত্মসাতের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে। তাই আমি বলব, এ মামলার আদেশ আরো দু’দিন পর দেয়া হোক।

এ সময় আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, মাই লর্ড, দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) আইনজীবী জামিন না দেয়ার জন্য ইতিপূর্বে দুটি যুক্তি দিয়েছিলেন। আমরা এসব মামলার নথি এনেছি। এখানে দেখা গেছে, ওই সব মামলায় আসামিদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ জামিন দিয়েছিলেন। এই বলে তিনি আদালতে দুটি মামলার নথি বাড়িয়ে দেন।

এ সময় আদালত দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খানকে বলেন, আপনি কিছু বলবেন? তখন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান আদালতের উদ্দেশে বলেন, এ মামলায় উনি (খালেদা জিয়া) সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মতো কারাভোগ করছেন। উনি এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আসামি। এক বছর বা দুই বছর জেল হলে কথা ছিল। সাজার পরিমাণ কম, এ বিবেচনায় জামিন দেয়া উচিত হবে না। এটা জামিন দেয়ার গ্রাউন্ড হতে পারে না। তার (খালেদা জিয়ার) শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ে কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট দেখানো হয়নি। এ সময় আদালত বলেন, এ শুনানি তো আপনি আগেও করেছেন। নতুন কি আছে সেটা বলুন।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ. জে. মোহাম্মদ আলী আদালতে বলেন, আগে খালেদা জিয়া অসুস্থ ছিলেন। এই অসুস্থতার কারণে তিনি হাঁটাচলা করতে পারেননি। এ সময় আদালত দুদকের আইনজীবীকে বলেন, ?উনাকে পাঁচ বছর সাজা দেয়া হয়েছে। আপনারা কি রায়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? জবাবে খুরশিদ আলম খান বলেন, আমরা রায়ে অসন্তুষ্ট। আদালত বলেন, আপনারা কোনো আপিল করেছেন? জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, আমরা রায়ের নথি দেখছি। কেননা এ মামলায় আপিল করার জন্য ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় রয়েছে।
এ সময় আদালত বলেন, সোজা কথায় বলেন, আপনারা রায়ের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা? জবাবে আইনজীবী বলেন, এখনো নিইনি।

এ সময় আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, উনি তো (খালেদা জিয়া) ফিজিক্যালি ফিট না। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সাবেক একজন প্রেসিডেন্টও (হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) পাঁচ বছর জেলে ছিলেন। পরে আদালত বলেন, ওই সময় উনার বয়স কত ছিল? জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, উনার বয়স ৬৫ কিংবা ৬৬ হবে। এ সময় আদালত বলেন, উনি তো অনেক সামর্থ্যবান ছিলেন। উনি পরে কারাগার থেকে বের হয়ে বিয়ে করলেন। একটি পুত্র সন্তানও হয়েছে শুনেছি। এ সময় বিচারকক্ষে কিছুটা হাসির রোল পড়ে যায়। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, উনি সামর্থ্যবান ছিলেন। খালেদা জিয়াও সামর্থ্যবান রয়েছেন। এ সময় আদালত বলেন, যাইহোক আমরা আদেশ দিচ্ছি।

এরপর আদালত বলেন, আমরা আইনজীবীদের শুনানিগুলো লিখিত আদেশে দিয়ে দেব। এখানে শুধু আদেশ দিচ্ছি। পরে আদালত চারটি যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন আদেশ দেন এবং চার মাসের মধ্যে পেপারবুক তৈরির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন।
এ সময় বিচারকক্ষের দরজায় অবস্থান করা আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা আনন্দে বিভিন্ন সেøাগান ও উল্লাস প্রকাশ করতে থাকেন। এ ছাড়া বিচারকক্ষের বাইরে এসে আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে আনন্দ মিছিল বের করেন।

এদিকে আদালতের এই আদেশের পর খালেদা জিয়ার জামিনে কারামুক্তির প্রক্রিয়া হলো- হাইকোর্টের এই জামিন আদেশটি লিখিতভাবে রায় প্রদানকারী আদালতে যাবে। এরপর রায় প্রদানকারী আদালতে একটি বেইল বন্ড (জামিননামা) দাখিল করতে হবে। ওই বেইল বন্ড জমার পর বিচারিক আদালত কারাগার বরাবর একটি রিলিজ অর্ডার পাঠাবে। সেই অর্ডার হাতে পাওয়ার পর খালেদা জিয়া জামিনে কারামুক্ত হবেন।

এদিকে গত রোববার রাজধানীর কোতোয়ালি থানার এএসআই মঞ্জু মিয়া একটি ট্রাংকে করে মামলার নথি নিয়ে বেলা ১২টা ৫৪ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছান। হাইকোর্টের আদান-প্রদান শাখায় নথি গ্রহণ করেন সেকশন কর্মকর্তা কে এম ফারুখ হোসেন। সেখান থেকে মামলার নথি ফৌজদারি আপিল বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। চার আসামি হলেন- সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক এমপি ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। সাজা দেয়ার পর পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর পরই ২২ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নি¤œ আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জামিন আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন। সেইসঙ্গে স্থগিত করেন খালেদা জিয়ার অর্থদণ্ড। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হয়। শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার মামলার নথি নি¤œ আদালত থেকে হাইকোর্টে এসে পৌঁছানোর পরই আদেশ দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্সিয়াল ব্যাংক থেকে ১২.৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন যার জন্য তিনি দায়ী। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারার অপরাধ করেছেন।

এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা: দুদকের মামলা: ২০০৮ সালের ৩ জুলাই, অভিযোগপত্র: ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট, অভিযোগ গঠন: ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ, আসামির সংখ্যা: ছয়জন, সাক্ষ্যগ্রহণ: ৩২ জন সাক্ষীর, যুক্তিতর্ক শেষ: ২৫ জানুয়ারি, বিচারের সময়: ২৩৬ কার্যদিবস, যুক্তিতর্ক শুনানি: ১৬ কার্যদিবস, রায় ঘোষণা: ৮ ফেব্রুয়ারি, জামিনের জন্য আপিল: ২০ ফেব্রুয়ারি, জামিন আদেশ: ১২ মার্চ।

কুমিল্লার নাশকতার মামলা: কুমিল্লার আদালত পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি জানান, কুমিল্লার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে গুলশান থানার পুলিশ এসে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে। সে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তা মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত পরিদর্শক বলেন, সে আদেশ এরই মধ্যে কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগারে দেয়া হয়েছে। কুমিল্লার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তা ঢাকার কারাগারে পাঠানো হবে। সেখানে কারাকর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়ইুম হক রিংকু একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস