খাবার ও পানাহারে ইসলামি শিষ্টাচার

জহির উদ্দিন বাবর :
একজন মুসলমানের প্রতিটি কাজই ইবাদতের শামিল। যে কাজের সঙ্গে বাহ্যত ইসলামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সেই কাজও কোরান-সুন্নাহর নীতি অনুসারে করলে তা ইবাদত হয়ে যায়। মানুষ বেঁচে থাকার জন্যই খাবার গ্রহণ ও পান করে। তবে এর যে ইসলামি নির্দেশনা ও শিষ্টাচার রয়েছে, তা মেনে করলে এটাও সওয়াবের কারণ হয়ে যায়। কীভাবে খাবার গ্রহণ করবে, পানীয় পান করবে, সেই নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
কোরানের ভাষ্য অনুযায়ী খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে ইসলামের প্রধান নির্দেশনা হলো- খাও, পান কর কিন্তু অপচয় করবে না। হাদিসে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। আর অপচয়টা খাবার-দাবারের ক্ষেত্রেই বেশি হয়। খাবার শুরু করতে হবে বিসমিল্লাহ বলে। ডান হাত দিয়ে নিজের সামনের অংশ থেকে খাবার গ্রহণ করা সুন্নত। খাবারের শুরুতে রাসুল (সা.) নিজেও বিসমিল্লাহ বলার প্রতি গুরুত্ব দিতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও উৎসাহ দিতেন। কারণ আল্লাহর নাম স্মরণ করার মধ্যে খাবার গ্রহণকারীদের জন্য বিরাট কল্যাণ রয়েছে। এভাবে খাবার এবং খাবার গ্রহণকারী উভয়ে শয়তানের অনিষ্ট ও অকল্যাণ থেকে নিরাপদ থাকে।
খাবার গ্রহণের সময় তা হালাল কি-না সে বিষয়টির প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সন্দেহ আছে, এমন কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না। কোনো খাবার বা পানীয়তে হারামের সামান্য সংমিশ্রণ থাকলেও তা থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার খেতে হবে দস্তরখানা বিছিয়ে। খাবারের পাত্র চেটে পরিষ্কার করে খাওয়া সুন্নত। কোনো খাবারের দোষ ধরা যাবে না। খাওয়ার সময় আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করতে হবে। খাওয়ার সময় মনে মনে নিয়ত করতে হবে, আমি খাবার খাচ্ছি শরীর সুস্থ রাখার জন্য, যাতে আল্লাহর ইবাদত যথাযথভাবে করতে পারি। খাওয়ার আগে-পরে দোয়া পড়তে হবে। রিজিকদাতা একমাত্র আল্লাহ, সেটা অন্তরে থাকতে হবে। এমনভাবে পেটপুরে খাওয়া যাবে না, যা অসুস্থ করে দেয় অথবা যার কারণে অলসতা চলে আসে। এ জন্য ইসলামের নির্দেশনা হলো পেটের একটি অংশ খালি রেখেই খাবার খেতে হবে। যখন ইসলামি রীতিনীতি মেনে খাবার গ্রহণ করবে, তখনই তা হবে একজন মুসলমানের খাবার।
– লেখক: শিক্ষক