‘ক্রসফায়ারের’ নামে কাউকে হত্যা করা হচ্ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘ক্রসফায়ারের’ নামে কাউকে হত্যা করা হচ্ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্রসফায়ারের নামে কোনো বাহিনী কাউকে হত্যা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, সুশীল সমাজের অনেকেই সমালোচনা করছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাকি নিরাপরাধদের ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি, ক্রসফায়ারের নামে কোনো বাহিনী কাউকে হত্যা করছে না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও বিজি প্রেস মাঠে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে গেলে যখন অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে গুলি ছোড়া হচ্ছে তখনই আত্মরক্ষার্থে গুলি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়।

তিনি বলেন, আমরা কঠিন সাজার ব্যবস্থা করে নতুন আইন করেছি। এই আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৩৫ হাজার। অথচ আছে ৯৫ হাজার কয়েদি। এই কয়েদিদের অধিকাংশই মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার। কঠোরতার কারণেই আজ মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারীদের জায়গা কারাগারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বিজিবিকে নির্দেশনা দিয়েছি কোনোভাবে সীমান্ত দিয়ে যেন মাদক না ঢোকে। কোস্টগার্ডকে বলেছি উপকূলে নজরদারি রাখতে। এরপরেও মাদক আসছে। আমরা মাদক তৈরি করি না তবুও মাদক আসছে। মাদক আমাদের যে কী ক্ষতি করছি তা ঘরে ঘরে জানাতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ইয়াং গ্রুপ সীসা বারে যায়। হুক্কা টানে। আগুনে ইয়াবা গুড়া করে টানছে। সেজন্য আমরা সীসাবারও নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বিদেশে দেখেন যেখানেই মাদকের ব্যবসা সেখানে কী পরিমাণ অস্ত্রের ব্যবসাও হচ্ছে। আমরা বলেছি, আইনি সহযোগিতা করবো, সারেন্ডার করেন, মুচলেকা দেন।

তিনি বলেন, অভিযানে মাদক কারবারীদের ধরতে গেলেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করছে। আত্মরক্ষার অধিকার তো আমাদের বাহিনীরও আছে। যারাই সারেন্ডার করবেন, মাদকের ব্যবসা করবেন ছাড়বেন, তাদের শেষ সুযোগটা দেয়া হবে। নইলে জেলে যেতে হবে। আর অস্ত্রের ঝনঝনানি যদি দেখাতে চান তাহলে কী পরিণতি হতে পারে তা আপনারাই জানেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তোমরা ছাত্র যুবকরা মাদককে না বলবে, মাদক বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেবে। আমরা তালিকা করেছি, কাউকে ছাড়বো না। ব্যবসা না ছাড়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে। মাদকের ব্যাপারে যারা তথ্য দিচ্ছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বাবা মা যেমন জঙ্গি সন্তানকে ধরিয়ে দিয়েছিল তেমনি মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে আসুন। আসুন আমরা ঘুরে দাঁড়াই মাদকের বিরুদ্ধে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মোসাদ্দেক মো. আবুল কালাম, কাউন্সিলর মুন্সি কামরুজ্জামান কাজল, মনোচিকিৎসক মোহিত কামাল, মানসের অধ্যাপক অরুপ রতন চৌধুরী।

মানবকণ্ঠ/এসএস