কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে ডিএসইর শেয়ার হস্তান্তর আগামীকাল

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক :
কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান সেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়ামের (জোট) কাছে আগামী মঙ্গলবার শেয়ার হস্তান্তর করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। এই শেয়ার হস্তান্তরের আগের দিন সোমবার ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধ করবে চীনা জোটটি। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, অর্থ পরিশোধ এবং ডিএসইর শেয়ার নিতে আজ রোববার চীনা জোটটির ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। পরের দিন সোমবার ডিএসইর শেয়ার পেতে প্রায় সাড়ে নয়শ’ কোটি টাকা পরিশোধ করবে জোটটি।
এজন্য চীনের সাংহাই ও সেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জকে নিটা অ্যাকাউন্ট (বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ টাকায় রূপান্তরের বিশেষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে এই অ্যাকাউন্ট খুলে ডিএসইর শেয়ারের জন্য অর্থ পরিশোধ করবে চীনা জোট। আগামীকাল সোমবার চীনের সাংহাই ও সেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোট কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ডিএসইর শেয়ার পেতে অর্থ পরিশোধের পর মঙ্গলবার বোর্ড সভা করবে ডিএসই। সকালে অনুষ্ঠিত ওই বোর্ড সভায় জোটটির একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন, যিনি পরবর্তীতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবেন। বোর্ড সভার মাধ্যমেই শেয়ার হস্তান্তরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এরপর দুপুরে হোটেল সোনারগাঁওয়ে শেয়ার হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।
সূত্রটি জানিয়েছে, গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের সাংহাই ও সেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোটকে নিটা অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ অনুমতির বিষয়টি পরের দিন ২৭ আগস্ট ডিএসই থেকে জোটটিকে জানানো হয়। কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনবে। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ২১ টাকা দরে মোট ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পরিশোধ করবে সাংহাই ও সেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ জোট। ডিএসইর শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোটের দেয়া অর্থ ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের ভাগ করে দেয়া হবে। বর্তমানে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন ২৩৭ ব্রোকার। এ হিসাবে প্রত্যেক ব্রোকার কৌশলগত শেয়ার বিক্রি থেকে পাবেন প্রায় চার কোটি টাকা করে। অবশ্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ২১ টাকা দরে বিক্রি করায় মূলধনী মুনাফার ওপর কর দিতে হবে। তবে ব্রোকাররা অন্তত তিন বছরের জন্য শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের শর্তে এ লেনদেনে কর ছাড় চেয়েছেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে সুপারিশও করে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
প্রসঙ্গত, চীনা জোটটিকে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চলতি বছরের ৩ মে অনুমোদন দেয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। অবশ্য এ অনুমোদনের সঙ্গে বেশকিছু শর্তও জুড়ে দেয় বিএসইসি। এর মধ্যে রয়েছে- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সব কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইন ও দেশের প্রযোজ্য অন্যান্য আইনসহ এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন ২০১৩ এবং ডিএসইর ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম অনুযায়ী পরিপালন করতে হবে। চুক্তির বাস্তাবায়ন প্রক্রিয়া চুক্তি সই’র পরবর্তী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করে কমিশনকে অবহিত করতে হবে। কমিশনের পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত চুক্তির শর্তাবলি ও আনুষঙ্গিক অন্য বিষয় পরিবর্তন করা যাবে না।