কোথায় তোমার ঘর গো নারী কোথায় তোমার ঘর?

চন্দ্রশিলা ছন্দা:
জীবন গতিময় এবং গতিময় জীবন ব্যবস্থা মানেই পরিবর্তনশীল। পরিবর্তনশীল প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাও। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুগের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারাই বুদ্ধিমানের কাজ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি দেশের একটি জাতির শিক্ষা সংস্কৃতি তার নিজস্ব রূপ বদল করতেই থাকে। আর এটাই নিয়ম। যদি এই নিয়ম না হতো তবে আজও সবকিছু স্থবির হয়ে থাকত। শিক্ষা সভ্যতার অগ্রসর হতো না। পূর্বে আমাদের দেশের কালচার ছিল মেয়েদের এগারো বারো বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া। স্কুলে পড়ালেখা করতে না দেয়া। প্রচলিত ছিল সতিদাহ প্রথা এবং বিধবাদের মৃতস্বামীর সঙ্গে জীবন্ত কবর দেয়া। সে সময় সেসব প্রথার পক্ষে হাজারও মানুষ ছিলেন এবং সেসব প্রথার বাইরে যাওয়াও এক রকম দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিল। তারপরেও সেই নির্মম সতিদাহ প্রথা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। সম্ভব হয়েছে দিনে দিনে আমাদের দেশ থেকে এই বাল্যবিবাহ প্রথা সম্পূর্ণ নির্মূল না হলেও অনেকটা কমিয়ে নিয়ে আসা গেছে। সুতরাং একথা আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে, এইভাবে আমাদের নানাবিধ প্রথা এবং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে থাকা বহু কুসংস্কারের সংস্কার হয়েছে এবং হচ্ছে। এক রকম সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে নতুন রকম সমাজ গড়ে উঠবে এটাই সত্য। এই সত্য থেকে দূরে থাকা মানে পুরাতন জীর্ণতাকে আঁকড়ে থাকা। সত্যের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানোটা কোনো সমাধান নয়। বরং সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মঙ্গলময়তা। বর্তমান সময়ে বৃদ্ধাশ্রম তেমনি এক সত্যের আশ্রয়স্থল। এই বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে বহু মতবিরোধিতা আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক মানুষই বৃদ্ধাশ্রমের বিপক্ষ অবস্থানে আছেন বলেই আমার ধারণা। একটা বয়সের পর বৃদ্ধবাবা-মাকে বনবাস দেয়ার মতো আশ্রমে পাঠিয়ে দেয়াটা আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না এটা যেমন সত্য তেমনি বৃদ্ধাশ্রম যে এখন সময়ের দাবি এটাকেও আমি সত্য মনে করি।
সূত্রমতে জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ২২০০ শতকে পরিবার থেকে বিতারিত ঘরছাড়া অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিয়ে পৃথিবীর প্রথম বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলেছিলেন প্রাচীন চীনের শান রাজবংশ। পৃথিবীর প্রথম প্রতিষ্ঠিত সেই বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য আরাম-আয়েশের সব রকম ব্যবস্থা তখন ছিল। খাদ্য চিকিৎসা বিনোদন ব্যবস্থার জন্য প্রাচীন চীনের ইতিহাসবিদরা এটিকে সভ্যতার একটি অংশই মনে করেন। পরবর্তীতে এই বৃদ্ধনিবাস ধারণাটি পশ্চিমাবিশ্বে জনপ্রিয়তা পায়। কারণ সেসব দেশে মানুষের আঠারো বছর পার হলেই তারা স্বাধীন স্বতন্ত্র। বাবা-মার কাছ থেকে দূরে থাকা ব্যক্তি মতামত প্রতিষ্ঠা করার অধিকার তাদের দেয়া হয়। ওদিকে বাবা-মাও তাই বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের কাঁধে চেপে থাকা পছন্দ করেন না। বরং তারা তাদের বয়সী বৃদ্ধদের সঙ্গে বন্ধুর মতো করে থাকতে পছন্দ করেন। ছেলেবেলার স্কুলজীবনের মতো। এই ব্যাপারটিকে তারা স্বাভাবিকভাবে নিতে পেরেছেন। জীবনের একটা অংশ মনে করেই বদলেছেন নিজেদের। দেখা যায় তারা সেখানে সমমনা মানুষের সঙ্গে গল্পগুজবে বেশ আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন। আত্মসম্মানের সঙ্গেই থাকছেন।
কিন্তু আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এই ধারণা খাপ খায় না বলে বৃদ্ধাশ্রমকে কারাগার মনে করা হয়। যেটা পশ্চিমে স্বাভাবিক, সেটা আমাদের জন্য অস্বাভাবিক কিংবা অমানবিক বলে মনে করা হচ্ছে। এখানে ব্যক্তির চেয়ে পরিবারের গুরুত্ব বেশি। ব্যক্তি স্বাধীনতার চেয়ে পরস্পরের সান্নিধ্যের মূল্য অনেক বেশি। সন্তান বড় হলে বাবা-মার দেখাশোনা সন্তানরা করবে এটাই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাও এক রকম মানসিক দৈনতা বলেই আমার মনে হয়। বিবাহিত জীবনে একজন নবদম্পতির শারীরিক মিলন একটি প্রকৃতগত ব্যাপার। একটা আনন্দঘন সময়ের ফসল সন্তান-সন্ততি। এই সন্তানের মুখ না দেখলে দাম্পত্য জীবনে পরিপূর্ণতা আসে না। একজন নারী মা ডাক শোনার আকাক্সক্ষা মনেপ্রাণে লালন করেন। আর তখন কিন্তু বড় হয়ে তাদের সন্তান তাদের দেখাশোনা করবে এই আশা পোষণ করেন না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সন্তান যত বড় হতে থাকে বাবা-মা বা আমাদের সমাজ যেন তাদের শেখাতে থাকে সন্তান বাবা-মায়ের শেষ অবলম্বন। বাবা-মা তাদের সারা জীবনের শ্রম এবং ইনকাম সন্তানের মঙ্গল চিন্তায় সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করেছেন। সুতরাং সন্তানকে স্বাবলম্বী হতেই হবে এবং হলেই বাবা-মাকে তার জš§ঋণ শোধ করতেই হবে। অর্থাৎ গিভ অ্যান্ড টেক। গাছ লাগিয়েছিলাম। ফসল ফলেছে। এখন খাবো। এর ব্যতিক্রম মানেই কুলাঙ্গার সন্তান। অথচ আমাদের দেশেও দিন কে দিন একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে ছোট হয়ে গেছে। এখন পরিবারে দুটি সন্তানই যথেষ্ট। আগে নারীরা গৃহপরিচালিকার কাজ করত। কিন্তু এখন সেটাও পাওয়া যায় না। কারণ বাসায় কাজ করার থেকে বিভিন্ন কলকারখানায় কাজ করলে বেতন বেশি পাওয়া যায়। নিজেদেরও সম্মান থাকে। জীবন-জীবিকার জন্য মানুষ শহরমুখী হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা বৃদ্ধি, নারীর আত্মসম্মান বোধ বৃদ্ধি, নারীর উচ্চ শিক্ষার আকাক্সক্ষা এবং সচেতনতা ইত্যাদি নানা কারণে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করতে হচ্ছে। এটাও সময়ের দাবি। এটাই পরিবর্তন। কাজেয় একই সঙ্গে সন্তানের দেখভাল করা, সংসারের নানাবিধ কাজ করা পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দৌড়ানো দিন দিন দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। আবার কখনো কখনো নিঃসন্তানদের দেখার কেউ না থাকলে কিংবা হতেপারে কেউ হয়তো চিরকুমার বা চিরকুমারীই থেকে গেছেন। হতেপারে সন্তান বিদেশে থাকেন কিন্তু বাবা-মাকে দেখার কেউ নেই সেক্ষেত্রে বৃদ্ধনিবাস একটি আদর্শ স্থান হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, যত যাই হোক বৃদ্ধাশ্রম বাবা-মায়ের শেষ ঠিকানা হতে পারে না। যে করেই হোক বাবা মাকে পরিবারের সঙ্গেই রাখা উচিত। অথচ ব্যস্ত জীবনে এমনও হয়, ফ্ল্যাট বাড়িতে বন্দি একজন বৃদ্ধ কিংবা বৃদ্ধাকে সঙ্গ দেয়ার কেউ নেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা কিংবা রাত পর্যন্তই তাকে একা থাকতে হচ্ছে। কথা বলার কেউ নেই। তাকে এক গ্লাস পানি বা ওষুধটা এগিয়ে দেবারও কেউ নেই। এটাও কি আদর্শ ব্যবস্থা? বৃদ্ধ বয়সটা কিছুটা শিশুসুলভ হয়ে যাওয়ার ফলে তারা বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন। কিন্তু সে সব শোনার মতো কারো সময় নেই। বা বিরক্তির উদ্রেক হতে পারে। আবার অনেক সময় ছেলের সঙ্গে কিংবা ছেলের বউয়ের সঙ্গে নানা কারণে তাদের মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তখন ছোট ছোট বিষয়েও কখনো কখনো বাবা-মা সন্তানের ব্যবহারে মানসিক যন্ত্রণা পেয়ে থাকেন। বৃদ্ধরা তাদের পুরাতন মানসিকতা ধারণ করেন যা বর্তমান যুগের সঙ্গে মেলে না, কিন্তু তারা তাদের ধ্যান-ধারণা সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে চান। না গ্রহণ করলে কষ্ট পেয়ে যান। এভাবে সন্তানের সঙ্গে পারস্পারিক দূরত্ব বৃদ্ধি হয় ফলে কখনো বা সন্তানের কাছে বৃদ্ধদের নিগৃতও হতে হয়। অপমাণিত হতে হয়। জšে§ও পর থেকে একটা অবোধ শিশু যে পরিবেশ বা ব্যবহারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেড়ে উঠতে পারে। একজন পরিপূর্ণ জ্ঞানপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে সেই পরিবেশ কিংবা সন্তানদের দুর্ব্যবহারের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো বা বসবাস আনন্দের হতে পারে না। তথাপি পরিবারের সঙ্গে থাকতেই হবে এই মানসিকতার আসলে পরিবর্তন প্রয়োজন। মানসিক প্রস্তুতি অনেক বড় একটা বিষয়। এটা শুধু বৃদ্ধাশ্রম নয় যে কোনো বিষয়ে পজেটিভ চিন্তা আমি মনে করি মানুষের বেঁচে থাকাকে সহজ-সুন্দর করে। সবকিছু ইমশন দিয়ে বিচার না করে বাস্তবতা দিয়েও বিচার করতে হয়। আমি জোর করে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসার পক্ষে উসকানি দিচ্ছি না। সংস্কার বা রীতিও ভাঙতে চাইছি না।
চাইছি বাস্তবতার নিরিখে সবার বাস্তব চিন্তা-চেতনা। আর তেমনই এক বাস্তবতার নাম বৃদ্ধাশ্রম। সব কিছুর মাঝে গন্ধ খুঁজে বিষয়কে জটিল করে না তুলে সহজ সুন্দরভাবে গ্রহণ করার অভ্যাস করা উচিত। কারণ বৃদ্ধ বয়সটা জটিলতায় ভরা একাকিত্বের বয়স। সেটা পরিবারের সঙ্গে থাকলেও কিংবা পরিবারের বাইরে থাকলেও। তবে কী করলে এই আশ্রয়গুলোকে আরো সুখের আবাস রূপে গড়ে তোলা যায় সেই পরিকল্পনা থাকলে জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে। যেমন আশ্রমগুলোর সামনে শিশুদের উম্মুক্ত খেলার মাঠ থাকলে কোলাহলময় একটা পরিবেশ তৈরি হয়। বিকালে বাচ্চাদের দুরন্তপনা দেখে হারিয়ে যেতে পারেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। ওদের মাঝে নাতি নাতির ছায়া পেতে পারেন। আশ্রমের ভেতরে বা বাহিরে সবজি বা ফুলের বাগান থাকলে কেউ কেউ গাছের পরিচর্যা করেও সময় কাটাতে পারেন। একটা লাইব্রেরি থাকলে যাদের বই পড়ার অভ্যাস আছে তারা সেভাবে সময় কাটাতে পারেন। তাদের বিনোদনের জন্য টেলিভিশনের ব্যবস্থা থাকা। মাঝে মধ্যে পিকনিকের মতো দূরে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া। সকাল-বিকেল খোলা মাঠে বা রাস্তায় স্বাধীনভাবে হেঁটে আসা। হালকা ব্যায়ামের জন্য প্রশিক্ষকদ্বারা ব্যায়ামের ব্যবস্থা থাকা। সেবা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও অবশ্যই থাকতে হবে। যারা তুলনামূলক বেশি বয়স্ক তাদের কাছে সার্বক্ষণিক একজন সেবিকা থাকা খুবই প্রয়োজন। তাদের জন্য বিশেষ যতেœর ব্যবস্থা থাকতে হবে। কারণ বৃদ্ধাশ্রম একটি সেবা প্রতিষ্ঠান। সরকার এবং ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা আশ্রমগুলো সমাজের মানুষের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করেই কিন্তু গড়ে তোলা হয়। সুতরাং দায়সারা বা লোক দেখানো হওয়া উচিত নয়। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষগুলোর জন্য বয়স্কোভাতাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। সরকারের পক্ষ থেকে এই মানুষগুলো ভাতার নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন। তাদের ছোট ছোট হাত খরচের স্বাধীনতা থাকা জরুরি। আবার পরিস্থিতির কারণে আত্মীয়-স্বজনরা যাদের আশ্রমে পাঠাচ্ছেন তাদেরও উচিত বিভিন্ন সময়ে বা কোনো উৎসবে তাদের হাত খরচ দেয়া, দেখতে যাওয়া। কিংবা বাসায় নিয়ে আসা। অর্থাৎ একটা সমঝোতার মতো। ইচ্ছে হলে কিছুদিনের জন্য সন্তান বা আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে যাওয়া আাসার মাধ্যমে একটা স্বাধীন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ থাকলে মনোকষ্টটা অনেকাংশে কম হয়। তাছাড়া শুধু আত্মীয়স্বজনদেরকেই যে দেখতে যেতে হবে এমনও নয়। মানুষ বিনোদনের জন্য কত যায়গায় বেড়াতে যান। ছুটির দিনগুলোতে নিজেদের জন্য কতভাবে কাটানোর উপায় খোঁজেন, তেমনি যদি বাচ্চাদের নিয়ে মাঝে মধ্যে বৃদ্ধাশ্রমেও বেড়াতে যাওয়া যায় তবে তাদের যেমন ভালো লাগবে, তেমনি মানুষের সঙ্গে মানুষের সৌহার্দ্য হƒদ্যতাও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের পরবর্তী প্রজš§কে মানবীয় গুণসম্পন্ন মানুষরূপে বড় হতে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি। কারণ আজ আমরা যারা কর্মক্ষম দাপুটে মানুষ আগামীকাল আমাদের পরিণতিও কিন্তু ওই রকম হবে। আর এই পরিণতিকে আশঙ্কায় পরিণত না করে সহজভাবেই নিতে হবে। যেমন রবি ঠাকুর বলেছেন ‘মনেরে আজ কহ যে, ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যরে লও সহজে।’ বৃদ্ধ বয়সটা যেমন সত্য। তেমনি সামাজিক এই প্রতিষ্ঠানও সত্য হোক। এই প্রতিষ্ঠানের কারণে কত দুস্থ-অসহায়দের আশ্রয় হচ্ছে এটাও কম নয়। কত নিঃসঙ্গ মানুষ বন্ধুর মতো একসঙ্গে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন সেটাকেই বা ছোট করে দেখা কেন? এই আধুনিক সময়ে পুরাতন চিন্তায় পিছিয়ে থাকলে চলবে না। আমাদের কৃষ্টি-কালচারের বাইরে বৃদ্ধাশ্রম যেমন গড়ে উঠেছে। তেমনি ডে কেয়ার বা মাদারস কেয়ার সেন্টারও কি গড়ে ওঠেনি? দুধের বাচ্চাদের মায়েরা সেখানে বাধ্য হয়ে রেখে কাজে যাচ্ছেন না কি? এটাও সময়েরই দাবি। নিজের পেটের সন্তানকে লালন-পালন করার সময় যাদের নেই, তারা কী করে বৃদ্ধ বাবা-মা বা আত্মীয়র দায়িত্ব বহন করবে? সুতরাং বৃদ্ধনিবাসকে অযথা কোনো সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট আর আতঙ্কের স্থান মনে না করে বরং নির্ভরতার স্থান মনে করা উচিত। সমঝোতার স্থান মনে করা উচিত। এই মনে করতে পারাই বদলাতে পারে আপনাকে। বদলাতে পারে সমাজকে। আসুন আত্মসম্মান বোধের সঙ্গে বাঁচি।