কোটা বহালের দাবিতে অচল শাহবাগ

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে দুই সংগঠনের অবস্থান দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। এই কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শাহবাগ মোড় হয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে ট্রাফিক পলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সকালে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, শাহবাগ মোড় অবরোধ করায় যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শাহবাগ হয়ে যেসব গাড়ি চলে, সেগুলোকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে ডাইভারশন করা হচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোড হয়ে মৎস্য ভবন অভিমুখী গাড়িগুলোকেও বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর সায়েন্স ল্যাব মোড়ের দিক থেকে আসা গাড়ি শাহবাগ মোড়ে এসে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের সামনে দিয়ে রূপসী বাংলা মোড় হয়ে অনেকটা পথ ঘুরে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছয়টি দাবিতে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষকারীদের বিচার, সরকারি চাকরিতে পরীক্ষার শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা, কোটা আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি ইত্যাদি।

বিক্ষোভকারীরা আরো বলেন, সরকার যেদিন কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করবে, সেদিনই তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের সুপারিশ অনুমোদন করে মন্ত্রিপরিষদ। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা আগের মতোই বহাল থাকছে। এ ব্যাপারে দুই-তিন দিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে। এরপর কোটা বাতিলের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল করতে করতে শাহবাগ গিয়ে অবরোধ করেন। তাঁদের অবরোধের ফলে শাহবাগে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অবরোধ হয় রাজশাহীতেও।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের সুপারিশ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটি। সচিব কমিটি মোট তিনটি সুপারিশ করেছিল। পরে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে তা আসে মন্ত্রিসভায়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে।

বর্তমান সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামো অনুযায়ী মোট ২০টি গ্রেড রয়েছে। এর প্রথম গ্রেডে অবস্থান করেন সচিবরা। আর প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যাঁরা নিয়োগ পান, তাঁদের শুরুটা হয় নবম থেকে ত্রয়োদশতম গ্রেড থেকে। একজন গেজেটেড বা নন-গেজেটেড প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নবম গ্রেডে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, জেলা কোটাসহ নানা ধরনের কোটা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ও শর্ত সাপেক্ষে ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা, অর্থাৎ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।

এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁদের দাবি ছিল, কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। কিন্তু সরকার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ কোটাই বাতিল করে দিয়েছে। তবে সচিব কমিটি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির জন্য কোটা বাতিলের ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করেনি। ফলে এ ক্ষেত্রে বর্তমানে যে নিয়ম বহাল রয়েছে, তা-ই থাকবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ