কেমন আছেন প্রধানমন্ত্রীর সেই তিন কন্যা

আসমা আক্তার শান্তা, উম্মে ফারোওয়া আক্তার রুনা, সাকিনা আক্তার রত্না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তিন কন্যা। ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর নবাব কাটরায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারায় ১২৩ জন। আপনজন হারিয়ে নিঃস্ব হয় অনেকে। এ রকম স্বজনহারা এই তিন কন্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুকে টেনে নেন মা-বাবা হারা ৩ মেয়েকে। নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে ঘোষণা দেন তারা তার নিজের সন্তান।

এর পরই গণভবনে নিজে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তিন কন্যার বিয়ে দেন ২০১০ সালের ৯ জুনে। এখানেই শেষ নয়। তিন মেয়ের জামাইদের দেন সরকারি-বেসরকারি চাকরি। হাজী সেলিম এমপি, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ আজিজ (কয়েক বছর আগে ইন্তেকাল করেন) কে তিন কন্যার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেন তিন উকিল বাবা। দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এই বিয়ে।

৮ বছর পর কেমন আছেন প্রধানমন্ত্রীর সেই তিন কন্যা? খোঁজ নিতে শুক্রবার সকালে হাজির হই ইসলামবাগ, হোসনী দালান ও চাঁনখারপুলে তিন কন্যার বাসায়।

তিন কন্যাই জানান, শত ব্যস্ততার মধ্যেও মা (প্রধানমন্ত্রী) তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। দুই ঈদ ও পহেলা বৈশাখে ফুল-ফল ও ঈদের উপহার সামগ্রী পাঠান নিয়মিত। বছরে একবার দেখা করার সুযোগ পান। গণভবনের দাওয়াতে গিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু আফসোস, দূর থেকেই তাদের সবাই মা (প্রধানমন্ত্রী)কে দেখলেও কথা বলার সুযোগ পাননি। যদিও প্রত্যেক বছরই একটু হলেও মা (প্রধানমন্ত্রী)-এর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। তবে এবার এত বেশি অতিথি ছিল যে কথা বলার কোনো সুযোগই হয়নি।

তারা জানান, প্রত্যেক ঈদেই প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য উপহার পাঠান। এবারের উপহার এখনো হাতে না পেলেও প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে গত সপ্তাহে ফোন করে তাদের সবার বয়সসহ যাবতীয় বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। হয়তো শিগগিরই সেগুলো হাতে আসবে। এ ছাড়া প্রত্যেক পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তাদের বাসায় ইলিশ মাছ, নতুন পোশাক ও মিষ্টি পাঠান।

প্রধানমন্ত্রীকে তারা কখনো উপহার দিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে কত উপহার দেন, তাদেরও ইচ্ছে করে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে। প্রথম ঈদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় তারা শাড়ি নিয়ে গেলে তিনি রাগ করে বলেছিলেন- ‘কেন তোমরা এসব আনতে গেছ।’ এরপর থেকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তাকে আর উপহার দেয়া হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর তিন কন্যাই জানান, তাদের সন্তানরা টিভিতে তাদের নানুকে (প্রধানমন্ত্রী) দেখে। তারা নানুর সঙ্গে কথা বলতে চায়, নানুর কাছে যেতে চায়। কিন্তু ওরাতো বোঝে না, ওদের নানু সাধারণ কেউ না যে ইচ্ছে করলেই তার কাছে যাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রীর বড় মেয়ে রুনা বলেন, হারিয়ে যাওয়া মা, খালা, বোনদের কথা বার বার মনে হয়। তাদেরকে হারানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ হিসেবে পাবার পর আমাদের আর কোনো কষ্ট নেই।

রুনার স্বামী সৈয়দ রাশেদ হোসাইন জামিল জানান, বিয়ের সময় তার মা (প্রধানমন্ত্রী) তাকে একটি চাকরি দেয়ার কথা বলেছিলেন। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাকে নৌ বাহিনীতে চাকরি দিয়েছেন। এখন সংসার ভালোই চলছে। প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেয়ে সাকিনা আক্তার রত্না জানান, এখনো সেই দিনের কথা বার বার মনে পড়ে। তখন কেউ দেখার ছিল না। গণভবনে বিয়ের পর মায়ের নির্দেশে তার স্বামী সাইদুর রহমান সুমনকে বেসিক ব্যাংকে চাকরি দেয়া হয়। এখন মেয়ে শ্রদ্ধাকে নিয়ে তাদের সংসার ভালো কাটছে।

তৃতীয় মেয়ে আসমা জানান, প্রধানমন্ত্রীর জন্য তারা মনের গভীর থেকে সব সময় দোয়া করেন। নিজের মা-বাবাকে হারানোর পর তিনি যেভাবে আমাদেরকে মায়ের ছায়া দিয়েছেন তার শীতলতাই আমরা খুব ভালো আছি। তাদের উকিল বাবা ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনও নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখেন বলে জানান তিনি। আসমার স্বামী আলমগীরকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর তিন কন্যার ঘর আলোকিত করে আছে ৫ নাতি-নাতনী। আসমা-আলমগীরের দুই ছেলে-রমাদান (৭) ও আয়াত হোসেন আদর (৪)। রত্না-সুমন দম্পতির এক মেয়ে শ্রদ্ধা (৬) ও রুনা-জামিল দম্পতির দুই ছেলে আলী মর্তুজা আযান (৮) ও দেড় বছর বয়সী আলী মোহাম্মদ। আযান জন্ম গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে ফুল পাঠিয়েছিলেন, তিনি নিজেই এই নামটি রাখেন।

মানবকণ্ঠ/এএএম