কুমেক হাসপাতালে টাকা না দিলে চিকিৎসা মেলেনা

কুমেক হাসপাতালে টাকা না দিলে চিকিৎসা মেলেনাকুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) আন্ত:বিভাগে প্রবেশ করা থেকে হাসপাতালের ছাড়পত্র পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি রোগীকে ধাপেধাপে দিতে হয় টাকা। প্রমাণসহ অর্ধ ডজনের বেশি রোগীর এমন অভিযোগ।

ইউনুস মিয়া গত ১৫ জুলাই ভর্তি হন মেডিসিন ওয়ার্ডে। হাসপাতালের কেবিনে সিট খালি না থাকায় তার স্থান হয় পুরুষ ওয়ার্ডের বারান্দায়। তবে বারান্দায় সিট পাওয়ার জন্য আয়াকে দিতে হয়েছে একশত টাকা। একদিন না যেতেই আয়া আবার দরদের সুরে বললেন আপনারা ফ্লোরে না থেকে বারান্দার সিটে উঠে যান, তবে এর জন্যও বকশিস দাবি করে। কর্ডিওলজি বিভাগে ১৩ দিন ভর্তি বরুড়ার মাওলানা ইউনুস, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, ইঞ্জেকশন পুশ করার জন্য দৈনিক নার্স/ ব্রাদারদের দিতে হয় টাকা। একদিন টাকা না দিলে পরের দিন ডাকলেও আসতে চায় না।

যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জুলহাস মিয়াজী শ্বাশুড়ীকে ভর্তি করিয়েছেন অর্থপেডিক্স বিভাগে এক্সরে করার জন্য। রোগীকে হাসপাতালের বাইরে নেওয়ার ট্রলির জন্য আবেদন করেন, ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করেও তিনি ট্রলি পান না। যখন ব্রাদারকে খরচের কথা বলে কিছু টাকা দিলেন ১০ মিনিটের মধ্যে ট্রলি চলে আসে। একই অভিযোগ মাজেদা বেগমের। হাসপাতালের ওয়ার্ড কেবিনে সিট না পেয়ে বারান্দায় শুয়ে আছেন ছেলেকে নিয়ে, আয়া এসে ১০০ টাকা দাবি করলে তিনি বিনয়ের সাথে জানান, মা আমরা গরিব মানুষ টাকা পয়সা নেই। তারপর ও মাজেদা ৫০ টাকা দেন, সে টাকা আয়া ছুঁড়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে শতশত অভিযোগ আছে, তবে অভিযোগ করলেই পরবর্তী কোন সেবা পায় না রোগীরা, অতীতে অভিযোগ করার কারণে হাসপাতাল থেকে কৌশলে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি আবেদন পত্র, সিট পাওয়া, রোগীর বিছানা পাওয়া, খাট পাওয়া, ট্রলি পাওয়া, খাবার পাওয়া, ইঞ্জেকশান, সেলাইন ফিট করাসহ সেবার প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে টাকা না দিলে রোগী পায়না চিকিৎসা সেবা।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে একদিকে নার্স, আয়া বলেন, মানুষ আমাদের খুশি হয়ে টাকা দেয়, আমরা তো জোর করি না। মাজেদা যখন বললেন আমি ৫০ টাকা দিলে টাকা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তখন অন্য এক নার্স বলেন, এখানে ৮ ঘন্টা করে ৩ শিফটে আমরা কাজ করি, হয়তো অন্য কোন শিফটের কেউ এমন করেছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী বলেন, যখন এ ধরণের কোন কাজ হয়, হাসপাতালের সে কর্মচারীকে ধরে আমার নিকট নিয়ে আসবেন। সরকারি হাসপাতালে এ বিষয়ে কোন ছাড় নয়, আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ