কুবি’র বানান পরিবর্তন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি নামের বানান পরিবর্তন করাতে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (০৬ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নামের বানান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এ নিয়ে তুমুল ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে।

জনা যায়, ০২ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) এর ১১৫ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার ইংরেজি নামের বানান Comilla এর পরিবর্তন করে Cumilla হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে মর্মে সিন্ডিকেটের ৭২তম সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি নাম সে অনুযায়ী Comilla University এর পরিবর্তে Cumilla University করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন স্বায়ত্তশাসিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন না করলে কিছুই হবে না। যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি হটকারী এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তুমুল ঝড় বইছে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

মাজহারুল ইসলাম ইমরান নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত কাপড়টাই খুলে নিলেন? এই বিশ্ববিদ্যালয়টা নরম মাটির পুতুলের মতো। সবাই খেলাচ্ছলে ইচ্ছামতো হাতাচ্ছে। কয়েকটা টি-শার্ট বানিয়েছিলাম, দুএকটি পুরস্কারও আছে। যেখানে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে লিখা আছে Comilla University এইবার বাড়িতে গেলে নিয়ে আসবো সেগুলোও পরিবর্তন করে দিবেন…”।

আহসান হাবীব নামে একজন লিখেছেন, ‘একটি Proper Noun এর প্রভাবে আরেকটি Proper Noun পরিবর্তন নিতান্ত অনাবশ্যক দুটোই স্বতন্ত্র। ইহা আজাইরা প্যাঁচাল আর কী’!

আশিকুর রহমান রাব্বানী নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন ‘আমার স্নাতকের সার্টিফিকেটে লিখা Comilla University আর এখন স্নাতকোত্তরের সার্টিফিকেটে Cumilla University….সর্বশেষ বেদনাটাও দিয়ে দিলেন, যা সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে…’

শাহাদাত বিপ্লব নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন “……..প্লিজ, আবেগগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া না করলেও তো হয়….. অবশ্য আপনাদের আবার আবেগ দেখবার সময় কই…?? আপনারা বড় মাপের মানুষ……”।

আহসান হাবীব নামে এক সাবেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, “….নাম পরিবর্তনের ব্যাপারটা আমার কাছে একটা চুড়ান্ত ফাউল কাজ মনে হচ্ছে। যত্তসব ডায়নামিক তেলবাজ আর স্বার্থান্ধের জমায়েত হয়েছে এই প্রাঙ্গনে; এটাই আমাদের দূর্ভাগ্য!….”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, প্রভাবশালী মহলকে সন্তুষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালকে সুকৌশলে দ্বিখণ্ডিত করেছেন। এখন নামের বানান পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন পিএসসিতে সমালোচিত কুবির বর্তমান উপাচার্য।

এ নিয়ে শাখা ছাত্রলীদের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, নাম পরিবর্তন একটা হটকারী সিদ্ধান্ত। যেখানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আগের নামে আছে সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম কেন পাল্টাবে? আগামী সিন্ডিকেটে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনার দাবি জানাচ্ছি।

এ নিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি জানান, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের কিছু নেই। এর মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজ হোক কাল নাম পরিবর্তন করতেই হতো। এখন পরিবর্তন করলে পরে সমস্যায় পড়তে হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জনান, ‘যেহেতু আমাদের এখোন সমাবর্তন হয়নি তাই মূল সনদ পত্র নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। সামনের সমাবর্তনে আমরা সকল শিক্ষার্থীকে পরিবর্তিত নামেই সনদ দিব। আর যারা মার্কশীট নিয়েছে তাদের সমস্যা হলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে পরিবর্তন করে নিতে পারবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ