কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছেন না বেপরোয়া পথচারীরা

রাজধানীর সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট। এতগুলো সংস্থা মিলেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না বেপরোয়া পথচারীদের। সব বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন তারা। এমনই অনেক পুলিশের খোদ সদস্যরাও ট্রাফিন আইনের গণ্ডির মধ্যে বন্দি হচ্ছেন না। ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। তবে আগের চেয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে গণপরিবহন। সচেতন হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরাও।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের সচেতনতামূলক মাইকিং বা বিনীত অনুরোধ, কোনো কিছুই শুনতে আগ্রহী নন এই বেপরোয়া পথচারী। তাদের কাছে অনিয়মই যেন নিয়ম। মাথার ওপরে ওভার ব্রিজ আবার পাশেই জেব্রা ক্রসিং থাকার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে রাজধানীর বেশিরভাগ মোড়ে। নিয়ম অমান্য করতে অভ্যস্ত পথচারীরা আবার এসব নিয়ে কথা বলতেও রাজি নন।

ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কাজ করা স্কাউটদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে কর্মসূচি পালন করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। তারা বলেন, ছোটবেলা তার এটা শেখেনি। রাস্তা পাড় হওয়ার জন্য আমরা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে বললে তারা জিজ্ঞাসা করে, জেব্রা ক্রসিং কী? তবে চর্চা করতে করতে এটা শিখবে।

নিয়ম অমান্য করা পথচারীদের নিয়ম মানতে বাধ্য করতে বিআরটিএ নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করেন। এসময় অনেকেই নিজের ভুল স্বীকার করেন। এমন একজন বলেন, আগে উল্টা-পাল্টা চলতাম, এখন ঠিক আছি, এরপরও জরিমানা দিয়েছি। হেলমেট না থাকায় ২০০ টাকা জরিমানা হয়েছে। আগামীকাল থেকে দুইটা হেলমেটই নিয়ে চলব।

তবে তুলনামূলক নিয়ম মানতে দেখা গেছে গণপরিবহনের চালকদের। হেলমেট ব্যবহারকারী চালকের সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যেও যারা অনিয়ম করেছে তাদের চেকপোস্টের মাধ্যমে মামলা দিতে দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশদের। তারা বলেন, যেকোনো পরিবহনই আগের থেকে আইনের প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল হয়েছে। অনেকেই এখন আইন মানছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মূল সড়কে নিষিদ্ধ লেগুনাও চলতে দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.