কিংবদন্তি সাংবাদিককে নিয়ে গুণীজনের মন্তব্য

চলতি বছরের ১ এপ্রিল প্রথিতযশা সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের ৭৫তম জš§দিন পালন উপলক্ষে ‘সুবর্ণ রেখায় বাতিঘর’ শীর্ষক একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এতে দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক নিয়ে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নানা মন্তব্য স্থান পায়। সেখানে নির্বাচিত কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো-
অনেক কাল আগে আমি তাকে পেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররূপে। সেই থেকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তার প্রবেশ এবং উন্নতি লাভের ধারাটি আমি আগ্রহে ও সানন্দে দেখে আসছিলাম। নিজ মেধা ও শ্রমের বদলে সে দেশের একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের সম্পাদক পদে সগৌরবে অধিষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিক মহলে সে সমাদৃত শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে। এই অর্জন সামান্য নয়।
-শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান

গোলাম সারওয়ারকে আমি সফল সম্পাদক হিসেবে মনে করি। ৭৫তম জš§বার্ষিকীর বার্তা হলো, যেভাবে সাংবাদিকতায় নিজস্ব একটা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, ভবিষ্যতেও তা ধরে রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
-অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

গোলাম সারওয়ার শুধু পত্রিকা প্রকাশনা এবং সাংবাদিকতাই করেননি, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগৎকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায়, কীভাবে আধুনিক করা যায়। কীভাবে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার কাগজ করা যায়, সেদিকেও নজর দিয়েছেন। সংবাদপত্রের মধ্যে যোগ করেছেন নতুন নতুন বিষয়। পাঠকের চাহিদা আর সংবাদপত্রের মান দুটোতেই তিনি খেয়াল রেখেছেন। খেয়াল রেখেছেন এক মলাটে কীভাবে পরিবারের সবার চাহিদা মেটানো যায়। আর শুধু খেয়াল রেখে দিন পার করেননি, সফলও হয়েছেন।
-সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী

গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আমার পরিচয়ের সূচনাটি বোধহয় তার মনে নেই; কিন্তু আমার মনে আছে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে যখন ইত্তেফাকের চাকরিতে আবার যুক্ত হই তখন ইত্তেফাকের অবস্থা খুবই সঙ্গীন। ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক তখন ছিলেন মুহম্মদ আসাফুদ্দৌলা রেজা। বাহাত্তর সালের গোড়ার দিকে তিনি বললেন, ইত্তেফাকের জন্য কিছু ভালো সাংবাদিক আনার জন্য। আমি তখন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলাম সে কারণে রেজা ভাই বোধকরি আমাকে একথা বলেছিলেন। যাই হোক ভালো সাংবাদিকের খোঁজে আমি নেমে পড়লাম। সেই সূত্রে গোলাম সারওয়ারকে খুঁজে পাওয়া গেল। কে সেদিন আমাকে গোলাম সারওয়ারের নাম বলেছিলেন একথা মনে নেই। তবে তিনি যে সংবাদপত্র জগৎ এবং পেশার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নাই।
-জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান

মুক্তিযোদ্ধা, দৈনিক সমকালের সম্পাদক, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি, সেন্সর বোর্ডের আপিল বিভাগের সদস্য এবং সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত গোলাম সারওয়ার বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের এক অনন্য প্রাণ। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ব্যাপী তার বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের নিবেদিত কর্মযজ্ঞতাকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। তার জš§দিনে জানাই অনেক শুভ কামনা।
-তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আমার পরিচয় আশির দশকের শুরুতে। সারওয়ার ভাই অত্যন্ত বন্ধুবাৎসল। বিভিন্ন সময় তার আন্তরিকতা ও বন্ধুবাৎসল্যের পরিচয় পেয়েছি। তার সম্পাদিত সব কাগজের সঙ্গেই তিনি আমাকে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি আমার হিতার্থীদের একজন। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের সংবাদপত্রের বিকাশ ও উত্তরণের ইতিহাসে তার নাম অতি গুরুত্বের সঙ্গে বারবার উচ্চারিত হবে।
-নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের

সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের কথা কিছু বলি। আমাদের সাংবাদপত্রের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, সিরাজুদ্দীন হোসেন, জহুর আহমেদ চৌধুরী, বজলুর রহমান, ফয়েজ আহমেদ, কেজি মুস্তাফার মতো উজ্জ্বল মানুষেরা। তারই ধারাবাহিকতায় গোলাম সারওয়ারও আমাদের একজন পথিকৃৎ সাংবাদিক। যার হাত ধরে আমাদের সংবাদ মাধ্যম বহুদূর পাড়ি দিয়েছে এবং সামনে আরো দেবে।
-সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর

তাকে আমি চিনি না। আবার তাকে চিনি। কি খেতে ভালোবাসেন তিনি, কোন রং পছন্দ? এমন মাত্রায় নিশ্চয়ই চিনি না। সবাইকে তেমনভাবে চিনতে হবে প্রয়োজনীয় নয়। তিনি একজন সাংবাদিক। সে পরিচয়ে বহুকালের চেনা। তিনি গুণী সম্পাদক, শ্রেষ্ঠদের একজন তাও অজানা নয়। গোলাম সারওয়ার নামের সাধারণ বলা ও চলার অসাধারণ মানুষটাকে চিনি অনেককালÑ সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে সারওয়ার ভাই ডাকি আর তিনি আমাকে ডাকেন নাম ধরে। তুমি করে বলেন। এর চেয়ে নিকটের সম্পর্ক, আরও বেশি করে তাকে চেনার কি দরকার আছে?
-অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্মাতা আফজাল হোসেন
আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি একজন গোলাম সারওয়ারের মতো মানুষ যুগে যুগে আসে না। তিনি সত্যিকার অর্থে আমাদের সম্পদ। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গুণী মানুষটির ৭৫তম জš§বার্ষিকীতে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
-চলচ্চিত্র নায়িকা ববিতা