কাশ্মির ইস্যুতে সর্বাত্মক লড়াইয়ের পথে চলে গিয়েছিল পাক-ভারত

গত মাসের ২৭ তারিখে আকাশযুদ্ধকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান এবং ভারত সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রান্তসীমায় চলে গিয়েছিল। ভারতীয় সংবাদ পত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে রাশিয়ার একটি সংবাদ সংস্থা।

খবরে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়াদিল্লি, ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটনের কয়েকটি সূত্র বলেছে ২৭ ফেব্রুয়ারি পরমাণু শক্তিধর দেশ দুইটি সর্বাত্মক যুদ্ধের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।

আকাশযুদ্ধে ভারতীয় বিমান বাহিনী বা আইএএফের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এবং বৈমানিককে পাকিস্তান আটক করার পর এ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। অবশ্য, এতে পাকিস্তানও একটি এফ১৬ বিমান খুইয়েছে বলে ভারতীয় সূত্রগুলো থেকে জোর দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের বালাকোটে কথিত সন্ত্রাসীদের একটি শিবিরে ভারতীয় বিমান হামলার একদিন পরই কাশ্মিরে আকাশযুদ্ধ হয়। ইসলামাবাদ বলেছে, পার্বত্য একটি খালি জায়গায় ২৬ ফেব্রুয়ারি বোমা হামলা করেছিল ভারত।

ভারতীয় বৈমানিক উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটকের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন ভারতীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএসের এক সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সদস্য ভারতীয় একটি দৈনিককে বলেন, পরমাণু বোতাম বা পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে কিছু জানি না। তবে পাকিস্তানে আটক ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তার কোনো ক্ষতি হলে সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।আরেকটি সূত্রও বলেছে, সে সময়ে ভারতীয় গোটা সামরিক বাহিনীকে চূড়ান্ত সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। কোরেশি সে সময় বিরাজমান পরিস্থিতিকে ‘সংকটপূর্ণ’ বলেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, ভারতীয় হামলায় কেউ হতাহত হলে বা কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালানো হলে তাকে পাকিস্তান ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করবে।

এদিকে, গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান এবং ভারত পরস্পরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকাসহ আরো কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় এ ধরণের হামলা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল।

মানবকণ্ঠ/এআর