কানাডা থেকে তিনটি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ

কানাডা থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশ বিমানের জন্য তিনটি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ৭০ থেকে ৮০ আসন বিশিষ্ট এই উড়োজাহাজ কেনার জন্য কানাডা সরকারের প্রতিষ্ঠান এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডা বিমান কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


এদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরাসরি বিমান কেনার ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬-এর একটি ধারার বিধান অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয় মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির সভায় নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উড়োজাহাজ কেনার প্রেক্ষাপট বলতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিমান বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা। বিমানের উড়োজাহাজের বহরে বর্তমানে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, ২টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর, ১টি এয়ারবাস ৩০০-২০০, ২টি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ রয়েছে। অর্থাৎ মোট ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি উড়োজাহাজ বিমানের নিজস্ব। আর বাকি ৭টি সংগ্রহ করা। ভাড়ায় সংগ্রহ করা ২টি উড়োজাহাজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল ও কক্সবাজারে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করছে। একইসঙ্গে ঢাকা, কলকাতা, কাঠমান্ডু, ইয়াংগুন আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিমানের ভাড়া করা ২টি উড়োজাহাজের মধ্যে একটি জানুয়ারি মাসে রি-ডেলিভারির জন্য বিমানবহর থেকে অপসারণ করা হবে। আর অপর একটি উড়োজাহাজ মার্চে অপসারণ করা হবে। এ ছাড়া ১টি এয়ারবাস, ২টি বোয়িং ২০২২ সালে জানুয়ারি মাসে ফেরত দিতে হবে। ফলে বিমানের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় উড়োজাহাজ সংকট সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, ভাড়া করা ২টি উড়োজাহাজের জন্য একদিকে যেমন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের বিদেশি মুদ্রাও চলে যাচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও শুধু মাসে ভাড়া খাতে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার। অথচ এই অর্থ দিয়ে অনায়াসে একাধিক উড়োজাহাজ কেনা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কানাডা থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব বেশ দীর্ঘদিনের।

২০১৫ সালে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশনের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব পাওয়া যায়। সেই থেকে কেনাকাটার প্রক্রিয়া শুরু। তবে আজকের সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হলে বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজির মাধ্যমে উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি হবে। কেনার জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কানাডার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে। এই সহায়তা ঋণ হিসেবে পরিগণিত হবে। তবে যে প্রতিষ্ঠান অর্থ সহায়তা করবে সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশকে খোঁজখবর নিতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে। এমনকি, যে কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ কেনার কথা হয়েছে সেই কোম্পানিরও খোঁজখবর নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই দফায় দফায় বোর্ড সভা করে বিমান বাংলাদেশ। পুরো বিষয়টি ১২ নভেম্বর বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানিয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে ৩০ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়।

মানবকণ্ঠ/আরএ