কানাডায় আশ্রয় পেলেন সেই সৌদি তরুণী

অবশেষে কানাডায় বৈধ আশ্রয় পেলেন সৌদি তরুণী রাহাফ মুহাম্মেদ আল কুনুন । কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসির।

রাহাফকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের ট্রুডো বলেন, কানাডা সব সময় মানবাধিকার ও নারীদের অধিকার রক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়ায়। জাতিসংঘ থেকে আল-কুনুনের পক্ষে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করা হলে আমরা তা গ্রহণ করি।

এদিকে থাইল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সূত্রে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে কোরিয়ান এয়ার ফ্লাইটে চড়ে ব্যাংকক থেকে কানাডার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন কুনুন।

কানাডার এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির হাইকমিশনার ফিলিপপো গ্রান্ডি বলেন, ‘কিছুদিন যাবৎ আল-কুনুনের দুর্দশা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। তার সংকট বিশ্বজোড়া শরণার্থীদের দুর্দশার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

পরিবারের সঙ্গে কুয়েতে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রাহাফ । থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যাংককের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী রাহাফকে আটক করে হোটেলের একটি রুমের ভেতর বন্দি রাখা হয়। জোর করে তাকে কুয়েতেগামী বিমানে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা তাকে বৈধ শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়। থাইল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আটক থাকার সময় রাহাফ টুইটারে জানিয়েছিলেন, তার কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা আছে। কিন্তু বিমানবন্দরে সৌদি আরবের এক কূটনীতিক তার সঙ্গে দেখা করে তার পাসপোর্ট জব্দ করেছেন। টুইটারে নিজের ছবি ও পাসপোর্টের ফটোকপি প্রকাশ করে লিখেন, ‘যেহেতু এখন আমার হারানোর কিছু নেই, তাই আমি আমার আসল নাম এবং সব তথ্য প্রকাশ করছি। আমার নাম রাহাফ মোহাম্মদ মুতলাক আল-কুনুন এবং এটা আমার ছবি।’ পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন তিনি। সৌদি আরবে জোর করে ফেরত পাঠালে তার পরিবার তাকে হত্যা করতে পারে। 

মানবকণ্ঠ/এআর

Leave a Reply

Your email address will not be published.