কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালে কাদেরের স্ত্রী

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ‘জীবন শঙ্কায়’ থাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের। এ সময় তিনি শুধুই কাঁদছিলেন। রোববার দুপুর ২টায় বিএসএমএমইউতে প্রবেশ করেন ইসরাতুন্নেসা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি ইসরাতুন্নেসা ও তার পরিবার।

এর আগে ‘জীবন শঙ্কায়’ থাকা ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে হাসপাতালে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর হাসপাতালে ছুটে আসেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতকর্মীরা।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসান জানিয়েছেন, সেতুমন্ত্রীর তিনটি রক্তনালীতে ব্লক ধরা পড়েছে। তার মধ্যে একটি স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে উনার অবস্থা ওঠানামার মধ্যে আছে। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। যেহেতু উনি ভেন্টিলেশনে আছেন, সেহেতু উনি জীবনশঙ্কায় আছেন বলতে পারেন।’

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর রাখছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে রোববার সকালে ওবায়দুল কাদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেতুমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, রোববার ফজরের নামাজ শেষে হঠাৎ করেই তার শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শরীর চেকআপ করেন। পরামর্শ দেন দ্রুত এনজিওগ্রাম করার। পরে তার এনজিওগ্রাম করা হয়।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর তার এনজিওগ্রাম শেষে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ওনার হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। ওনার সুস্থতার জন্য দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া কামনা করেছে আওয়ামী লীগ।