কলেজছাত্রীর গোপনাঙ্গে ছুরিকাঘাত, বখাটে অভি রিমান্ডে

কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে গোপনাঙ্গে ছুরিকাঘাত মামলার আসামি বগুড়া শহর যুবলীগ সভাপতির ছেলে কাওসার আলম অভি (২২) এখন আত্মসমর্পণ করেছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে তার মা নাসরিন আলম। পুলিশ সোমবার দুপুরে অভিকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জর করেন।

গণমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক ঝড় উঠায় অভি বগুড়া সদর থানায় নিজে এসে পুলিশের কাছে ধরা দেয়। এ সময় তার সাথে তার মা বগুড়া শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন আলমসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিল। সোমবার বিকেলে পুলিশ তাকে বগুড়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ জানান, বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় শুনানি শেষে তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভি নির্যাতিত কলেজছাত্রীকে তার প্রেমিকা দাবি করার পাশাপাশি অন্য জায়গায় তার বিয়ে দেবার প্রয়াস ভণ্ডুল করতেই ছুরিকাঘাত করার ঘটনা স্বীকার করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভির বিপুল খরচের মূল উৎসই ছিলো তার বাবা বগুড়া শহর যুবলীগের সভাপতি মাহফুজুল আলম জয় এবং চাচা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের প্রভাব। বাবা ও চাচাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা নিতো অভি বাহিনী। যার কারণে মাত্র ২২ বছর বয়সে বেপরোয়া অভির টাকার কোন সমস্যা ছিলো না। দামি মোটরসাইকেল নিয়ে বিশাল বাহিনীর পরিচালনা করতো সে।

বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কামরুজ্জামান জানান, অভির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সেখানে অনেক ছবি ও ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। সেগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে কলেজছাত্রী ও তরুণী বিউটিশিয়ানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রভাবশালী পরিবারে অপরাধী ছেলে বখাটে অভির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার সকাল ১১টা থেকে ঘণ্টা ব্যাপী বগুড়া শহরতলীর তিনমাথা রেলগেটে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে পালশা গ্রামের সর্বস্তরের নারী-পুরুষ।

বগুড়া পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বিচার চাই প্রশাসনের কাছে। এসব ঘটনার বিচার না হলে অপরাধী বখাটের আরো অনেক মেয়ের সর্বনাশ করার সাহস পাবে।

অভির মা নাসরিন আলম রবিবার রাতে জানান, তার ছেলে যে কাজ করেছে তাতে তারা অনুতপ্ত। এ ধরনের কাজে বিচার হওয়া উচিত। এ কারনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া বলেন, অপরাধী পুলিশি অভিযানে আতংকিত হয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রচলিত আইনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য উদঘাটন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা অসহায় ওই কলেজছাত্রীর পরিবারকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিবো।

মানবকণ্ঠ/এসএ