কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ : ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শনিবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিতব্য গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের হাতে চলে আসায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মতো প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের প্রশ্ন ফাঁসের এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। উপজেলা প্রাথমিক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন তদন্ত সাপেক্ষে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা স্থগিত করাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতি প্রাথমিক শিক্ষা স্তর পর্যন্ত চলে আসায় উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে আগামী প্রজšে§র মধ্যে।
নির্ভরযোগ্য সূত্র ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়ায় সরকারি ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২শ’টি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫ সহস াধিক শিক্ষার্থী ৮ আগস্ট থেকে ২য় সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের পরীক্ষার সময়সূচি, প্রশ্নপত্র তৈরি, সরবরাহসহ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় প্রতি উপজেলায় পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি রয়েছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সভাপতি, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা অফিস থেকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তৈরিকৃত প্রশ্নপত্রসমূহ বিষয়ভিত্তিক পৃথক খামে সীলগালা করে সরবরাহ করা হয় স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ২০-৩০ মিনিট পূর্বে প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে খাম খুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। এরপর ঘণ্টা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব প্রশ্নপত্র সরবরাহ করবেন। কিন্তু কতিপয় কোচিংবাজ শিক্ষকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে মৌখিক কিংবা ফটোকপি করে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছেন তাদের শিক্ষার্থীদের কাছে। যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝে। এ ছাড়া কলাপাড়া মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৮ আগস্ট প্রাক-প্রাথমিকের গাণিতিক দক্ষতা বিষয়ের পরীক্ষা নিতে গিয়ে গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের খাম খোলায় প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তার বিষয়টি ক্ষুণœ হয়েছে। অথচ উপজেলার অন্য সব বিদ্যালয়ে গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার।
এ বিষয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বশার বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ বিষয়ে কঠোরভাবে গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশনা রয়েছে। তার পরও যদি ফাঁস হয়ে থাকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.