কর্মক্ষেত্রে কেমন আছে নারী

বিপাশা ইসলাম :
বৈষম্য: আন্তর্জাতিক শ্রম তহবিল (আইএলও) ‘বিশ্ব কর্মসংস্থান ও সামাজিক অগ্রগতি প্রতিবেদন নারীদের অবস্থান ২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব শ্রমবাজারে নারী-পুরুষের বৈষম্যের বিষয়টি এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বৈষম্য বৃদ্ধির ফলে নারীরা কাজ কম পাচ্ছে আর যেসব নারী কাজ পাচ্ছেন, তারাও মানসম্পন্ন কাজ পাচ্ছে না। একই মানের কাজের জন্য নারীরা পুরুষের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে গত দুই দশকে কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম নারীদের মাত্র ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ কাজ করে যেখানে পুরুষদের অংশগ্রহণের হার ৭৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
পুরুষ কর্মীরা যেখানে নির্বিঘেœ নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছে সেখানে নারীরা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু নারী হওয়ার কারণে সুযোগ পাচ্ছে না।
পদোন্নতিতে: প্রায়ই দেখা যায়, নারীদের মাতৃত্বকালীন অবস্থার কারণে তারা বিভিন্ন মেয়াদে ছুটিতে থাকে যা তাদের পদোন্নতিতে বিলম্বের দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে। অনেক সময় সিনিয়র পুুরুষ কলিগরাও নারীর পদোন্নতিতে বাধার সৃষ্টি করে।
চাকরি হারানোর ভয়: বৈষম্যের পাশাপাশি নারীদের সব থেকে বেশি যে সমস্যাটার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলো যৌন হয়রানি। কখনো বা চাকরি হারানোর ভয়ে নীরবে সহ্য করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
প্রতিকারের উপায়:
১. নারীদের তাদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে ।
২. অন্যায়কে কোনোভাবেই মুখবুজে সহ্য করা যাবে না। প্রতিবাদ জানাতে হবে।
৩. নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। নারীদের সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরি করে দেয়ার দায়িত্বটা পুরুষদেরই নিতে হবে।
৪. কর্মক্ষেত্রে নারীকর্মীদের পতিপক্ষ না ভেবে সহকর্মী ভাবতে হবে। তাদের সমস্যার কথাগুলো শুনতে হবে।
৫. ঊর্ধ্বতন কর্তা-ব্যক্তিদের উচিত নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নারী কর্মীদের তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগের পূর্ণ ব্যবস্থা করে দেয়া।