কর্পোরেট নৈতিকতার মহা উত্থান

কর্পোরেট নৈতিকতার মহা উত্থানএকটু পিছনে আমাকে ফিরতে হবে। কিছু কথা আগে জানতে হবে। নৈতিকতা শব্দটি ইংরেজি ‘Morality’ থেকে আগত আর যখন তা ল্যাটিন শব্দ ‘মোরালিটাস’ থেকে আগত হয় তখন তার অর্থ হয় চরিত্র, ভদ্রতা, সঠিক আচরণ, কল্যাণকর। নৈতিকতা হল সঠিক এবং ভুল বিষয়সমূহের মাঝে উদ্দেশ্য, সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়াসমূহের পার্থক্য ও পৃথকীকরণ।

শিক্ষাবিদ কমেনিয়াসের মতে, ‘শিক্ষা হচ্ছে মানুষের নৈতিক উন্নতির সাহায্যে ইহলোক ও পরলোকের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি। শিক্ষার সাহায্যে মানুষ নিজেকে ও বিশ্বকে জানতে পারে।’ নৈতিকতাকে একটি আদর্শিক মানদন্ড বলা যেতে পারে যা বিভিন্ন অঞ্চলের সামাজিকতা, ঐতিহ্য, সংষ্কৃতি, ধর্ম প্রভৃতি মানদন্ডের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে সমগ্র পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর বিষয়সমূহকেও নৈতিকতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এক কথায় আমি যেভাবেই বলি না কেন তা হলো কল্যাণকর এমন বিষয় যা মানুষ কে ভালো কিছু উপহার দেয় ।

অন্যভাবে বললে নৈতিকতা হলো চালক এবং সাথে নিয়ন্ত্রকও। আর শিক্ষা হলো এ চালকের উৎস। শিক্ষা মানুষের অন্তর বা প্রাণ বা আত্মায় এ চালক কে ইনস্টল করে দেন। ফলে শিক্ষা যদি বস্তুবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা হয় তাহলে চালক বা নৈতিকতা সে শিক্ষার অনুরূপ বস্তুবাদী নৈতিকতা সম্পন্ন হবে।

আর শিক্ষা যদি ইসলাম ধর্মীয় হয় তাহলে চালক বা নৈতিকতা মানবিক হবে। কারণ ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষায় মানুষকে যন্ত্র বিবেচনা করা হয়। ফলে এখানে যান্ত্রিক নৈতিকতা সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ইসলাম মানুষের আত্মাকেই প্রকৃত মানুষ বিবেচনা করে। ফলে ইসলামের নৈতিকতা হয় মানবিক ও কল্যাণকর।

এখন বিষয়টা হলো নৈতিকতার যে শিক্ষা আমরা অর্জন করলাম তার প্রয়োগ নিয়ে। একজন ক্রিকেট বা ফুটবল কোচ যখন তার খেলোয়ারদের কে প্রশিক্ষণ দেন তখন স্বাভাবিক ভাবেই সবার প্রত্যাশা থাকে এই প্রশিক্ষণ খেলোয়াররা মাঠে প্রয়োগ করে একটি সুন্দর রেজাল্ট বের করে আনবে। কিন্তু খেলোয়ারেরা যদি মাঠে গিয়ে প্রশিক্ষণের কথা ভুলে গিয়ে নিজের খেয়াল খুশি মতো খেলে যাচ্ছেতাই রেজাল্ট করে তাহলে কোচসহ অন্যদের হা হুতাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকেনা। মুল বিষয়টা হলো বাস্তবে প্রয়োগ করা ।

ইসলাম ধর্ম আমাদের কে নৈতিকতার মহা ভান্ডার সামনে হাজির করেছে। আমাদের জীবন চলার পথেয় হিসেবে আমাদের প্রীয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবনী সামনে বিদ্যমান। আর আমরা চেষ্টাও করি এই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার। কিন্তু বর্তমান এই ডিজিটাল যুগে ব্যাপারটি হয়ে গেছে সম্পূর্ণ উল্টো।

নৈতিকতার বিষয়টি যদি হয় আমাদের স্বার্থের বিপরীত তাহলে আমরাও বিপরীতমূখী আচরণ শুরু করে দিই । অবশ্যই নৈতিকতার বিষয়টি আমাদের স্বার্থের অনুকুলে হতে হবে। অথচ ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন বলছে ‘সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঘোলা করবে না, এবং জানার পরেও সত্যকে ঢেকে রাখবে না।’

এমন কথা আমরা অহরহ পড়ছি আর দেখছি। কিন্তু ফল হচ্ছে উল্টো। কারন ধর্মীয় বিবেচনায় আমরা এখন আর কথা বলিনা। কারন কোন সত্য বললে আমরা আমাদের লাভ আর লোকসানের পার্থক্য করতে পারব তা বিবেচনায় নিয়ে আমরা কথা বলি। সত্য বললে যদি লাভের পরিবর্তে লোকসানের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে আমরা চুপ থাকি অথবা যারা অনৈতিক তারা মিথ্যা বলি। আর এই লাভ লোকসান বিবেচনায় নিয়ে সত্য বলা বা না বলাকে আমরা বলতে পারি কর্পোরেট নৈতিকতা।

সুতারাং আমরা দ্বিধাহীনচিত্তে বলতেই পারি এটাই হচ্ছে আমাদের বর্তমান নৈতিকতা। সামাজিক বাস্তবতায় আমরা ক্লিন ইমেজ তৈরিতে যতটা উদগ্রীব ঠিক ততটাই উদাসীন ক্লিন ইমেজের অধিকারী হতে।

লেখক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব
মানবাধিকার কর্মী

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ