কমলার ভালো ফলন হয়েছে পাহাড়ে

কমলার ভালো ফলন হয়েছে পাহাড়ে

এ বছর রাঙ্গামাটির পাহাড়গুলোতে কমলার ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি কমলার আকারও বড় হয়েছে। বেড়েছে মিষ্টতা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নানিয়াচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। উপজেলায় কমলা চাষের বিপ্লব ঘটানো সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের নম কার্বারী পাড়ার মধুসূধন তালুকদারের বাগানে রঙিন কমলায় ভরপুর। বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে রসালো রঙিন কমলা।

সম্প্রতি মধুর কমলা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, পাকা কমলায় নুয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। প্রতিটি গাছে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে কমলাগুলো।
মধুসূধন বলেন, গত কয়েক বছরে ৩০ লাখ টাকার অধিক কমলা বিক্রি করেছি। এ বছর ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে গত জুন মাসে পাহাড় ধসের সময় কিছু গাছ নষ্ট হওয়ায় আফসোস মধুর। ইতিমধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন। প্রতি জোড়া কমলা বাগানে বিক্রি করছেন ৪০-৫০ টাকা। এ বছর ৪-৫ লাখ টাকার কমলা পাবেন বলে আশা তার।

মধুসূধন বলেন, আমি এখন জাতীয় কৃষি পদকের স্বপ্ন দেখি। আমার কমলা বাগান দেখে উপজেলায় অনেকে কমলা বাগান সৃজন করেছেন। তারাও সফল হচ্ছেন। নানিয়াচর কমলা এখন সারাদেশে যাচ্ছে। বর্তমানে রাঙ্গামাটির বাজারে যেসব কমলা পাওয়া যায় অধিকাংশ নানিয়াচরের, বলেন মধু।

সাবেক্ষ্যং এলাকার নব জ্যোতি চাকমা (৩০) বলেন, এ বছর তার কমলা বাগানটি ৩ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। এ বছর তার বাগানে ফলন বেশি হয়েছে তবে আকারে একটু ছোট হয়েছে।

নিবারণ চাকমা (৩৫) বলেন, আগামী বছর তিনি তার বাগানে ভালো কমলা ফলনের আশা করছেন।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, মাটির কমলা চাষের উপযোগী হওয়ায় নানিয়াচরের কমলাগুলো গাছে রং ধরার পরও অনেকদিন গাছে থাকে। তাই দামও বেশি পান কমলা বাগানীরা। নানিয়াচরে ৭০ হেক্টর জমিতে কমলা বাগানে আছে।

রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, নানিয়াচরের মাটি কমলা চাষের উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা ও কৃষিপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ এলাকায় লেবু জাতীয় ফলের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।

জেলায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে কমলার বাগান আছে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছর চেয়ে ৫শ’ মেট্রিক টন বেড়েছে বলেন, পবন কুমার।

মানবকণ্ঠ/এসএস