কক্সবাজারে মাস্টার রোলে কর্মরত শতাধিক কর্মচারীর দুর্ভোগ চরমে

ফরহাদ ইকবাল, কক্সবাজার:
মাস্টার রোল। পর্যটনের কর্মচারীদের জন্য এ যেন ভয়ানক অভিশাপের নাম। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পর্যটনে চাকরি করছেন নয়ন মল্লিক। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার শহরের পর্যটন কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হোটেল শৈবালে পরিচ্ছন্ন কর্মীর (ক্লিনার) কাজ করছেন। মাস্টার রোলে তার পরে চাকরির নিয়োগ পাওয়া অনেকেরই ভাগ্য পরিবর্তন হলেও ভাগ্য এখনো নয়নের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি। সরকারের স্বনামধন্য স্বায়ত্তশাসিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় জীবনের অধিকাংশ সময় চাকরি করলেও অর্থাভাবে করুণ দিনযাপন করছেন নয়ন। বর্তমানে তার পরিবারে ২ ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে। স্ত্রীসহ তার ৫ জনের সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নয়নকে। তাই বাধ্য হয়ে চাকরি শেষে রিকশা চালান নয়ন। একইভাবে হোটেল শৈবালে সিকিউরিটি পদে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন মো. নেছার। দায়িত্বের বাইরে তিনি সেনেটারী মিস্ত্রীর কাজ করছেন। শুধু নয়ন বা নেছার নয়, তাদের মতো হাবিব, শাহজাহান, জালাল, মুনির, কামাল, কাজল, আনন্দ, সোনা মিয়া, স্মৃতি রাণী, মিনু বড়–য়া, আবদুর রহিম, করিম, হুমায়ুন, আলম ও মোটেল উপলে কর্মরত পলক, বাবুল, ছাড়াও পরিবাবের কর্মক্ষম অসংখ্য ব্যক্তি দিনের পর মূল দায়িত্বে বাইরে কাজ করে গেলেও আদৌ তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। এত কিছুর পরও সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের উর্ধ্বতন মহলের আন্তরিকতার অভাবে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই অবস্থা কক্সবাজারে পর্যটন কর্পোরেশনের পাঁচটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মাস্টার রোলে কর্মরত শতাধিক কর্মচারীর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, অনেক সময় রাতে এমনকি ছুটির দিনেও তাদের কাজ করতে হয়। ওপরের কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা বাড়তি কাজ করতে বাধ্য হন। কিন্তু তারা ওভারটাইমও পান না। দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় পর্যটনে মাস্টার রোলে নিযুক্ত কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা থাকলেও তাদের ওপর মহলের সুদৃষ্টি না থাকায় তারা বার বার অবহেলিত হয়ে আসছেন। এসব কর্মচারীদের অনেকে যথেষ্ট দক্ষতাস¤পন্ন। বিএ পাসও আছেন কেউ কেউ। কিন্তু তা কোনো কাজে আসছে না। শুধু তাই নয়, সরকারি স্কেলে নির্ধারিত বেতনও পাচ্ছেন না তারা। সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন কারণে করুণ সময় পার করছেন ওইসব কর্মচারীরা। জানা যায়, সারা দেশে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাস্টার রোল ও অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত (আউটসোর্সিং) কর্মচারীদের জন্য প্রথমবারের মতো মাসিক সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে ২০ নম্বর গ্রেডে থাকা কর্মচারীর সর্বনিম্ন মাসিক বেতন দাঁড়াবে ১৫,৫০০ টাকা। আর ১৬ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীর বেতন হবে ১৭,০৪৫ টাকা। নতুন এ কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো বছরে দুটি উৎসব ভাতা ও পহেলা বৈশাখে নববর্ষ প্রণোদনা দেয়া হবে তাদের। কিন্তু পর্যটন কর্পোরেশনের ওইসব কর্মচারীরা এ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের কক্সবাজার হোটেল শৈবালের ম্যানেজার সৃজন বিকাশ বড়–য়া জানান, স্থায়ীকরণ এবং বেতন বাড়ানোসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি করেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ। তবে স্ব স্ব প্রজেক্ট থেকে সুপারিশ পাঠানো হলেও নীতিমালা অনুযায়ী স্থায়ীকরণ এবং বেতন বাড়ানোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তা কার্যকর হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক ( প্রশাসন) এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, পর্যটন কর্পোরেশনের মাস্টার রোলে কর্মরত কর্মচারীদের আউটসোর্সিংয়ে বাড়ানো বেতন কার্যকর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা শীঘ্রই কার্যকর করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.