ওয়াহেদ ম্যানশনের নিচতলায় দাহ্য রাসায়নিকের বিশাল মজুদ

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় হাজী ওয়াহেদ ম্যানশন নামের যে ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ভবনটির নিচতলায় বেআইনিভাবে শত শত দাহ্য রাসায়নিকের কনটেইনার এবং প্যাকেট মজুদ করে রাখা হয়েছে। দমকল বাহিনীর লালবাগ স্টেশনের কর্মকর্তা রতন কুমার দেবনাথ এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে রতন কুমার দেবনাথ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গিয়ে আজ সকালে দমকল বাহিনীর একটি দল ভবনটির নিচতলার গেটের তালা ভেঙে সেখানে রাসায়নিক পদার্থের একটি গুদাম খুঁজে পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, ভবনটির নিচতলায় যে এভাবে শত শত দাহ্য রাসায়নিকের কনটেইনার এবং প্যাকেট মজুদ করে রাখা হয়েছিলো, আগুন নেভানোর সময় তা আমাদের জানা ছিলো না।কোনভাবে যদি আগুন ভবনটির নিচতলায় গিয়ে রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসতো, তাহলে তা আশপাশের অন্যান্য ভবনেও ছড়িয়ে পড়তো এবং যা সহজে থামানো যেতো না।

রতন কুমার দেবনাথ বলেন, কোনো আবাসিক ভবনে কেউ দাহ্য বস্তু মজুদ করে রাখতে পারেন না। কিন্তু, এই ভবনটিতে বেআইনিভাবে শত শত দাহ্য রাসায়নিকের কনটেইনার এবং প্যাকেট মজুদ করে রাখা হয়েছিল।

তবে, ওই গুদামে সংরক্ষিত কনটেইনারগুলো সব রঙের এবং সেখানে কোনো দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ নেই জানিয়ে নিচতলার গেট ভাঙার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী দমকল কর্মীদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশনসহ পাঁচটি ভবনে আগুন ধরে যায়। সেসব ভবন এবং আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক আর প্লাস্টিক-পারফিউমের গুদাম ওই আগুনকে ভয়াবহ মাত্রা দেয় বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ধারণা করছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ৬৭ জনের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৪৫ জনের মরদেহ শনাক্ত করার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

মানবকণ্ঠ/এএম