ওয়ালটন ডিজিসফটে অভাবনীয় সাড়া

ওয়ালটন ডিজিসফটে অভাবনীয় সাড়া

বেসিস সফটএক্সপোতে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে ওয়ালটনের ডিজিসফট নামের ব্যবসায়িক সফটওয়্যার। একই সঙ্গে নজর কেড়েছে স্টলে থাকা ‘আইডিয়া বক্স’ এবং ‘সিভি বক্স’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসিসের আয়োজনে রাজধানীর কুড়িলে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটিতে (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মেলার ২ নম্বর হলের ৩ নং প্যাভিলিয়নে ছিল ওয়ালটনের সুদৃশ্য স্টল। ডিজিসফট নামের ব্যবসায়িক সফটওয়্যার নিয়ে সফটএক্সপোতে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং আইটি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ লিয়াকত আলী জানান, ডিজিসফট মূলত ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য টোটাল সফটওয়্যার সল্যুশন। যা ডেভেলপ করেছে দেশের একঝাঁক তরুণ এবং মেধাবী সফটওয়্যার ডেভেলপার। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে চার ধরনের সেবা মিলবে। যেগুলো হলো সিআরএম, পিওএস, এইআরএমএস এবং ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সল্যুশন।

তিনি জানান, ওয়ালটন ইতোমধ্যেই এই চার ধরনের সফটওয়্যার নিজেদের প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করেছে। এসব সফটওয়্যার ওয়ালটনের কার্যক্রম সহজ করেছে, বাড়িয়েছে কাজের গতি, কমিয়ে এনেছে মানব-সম্পদ ও আর্থিক খরচ।

মেলায় ওয়ালটন স্টলের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর (আইটি) গালিব ইবনে কিবরিয়া বলেন, আমাদের যে টার্গেট ছিল, তার দ্বিগুণেরও বেশি সাড়া পেয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাদের সফটওয়্যার নিতে আগ্রহী। এমনকি বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও এই সফটওয়্যারটির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

তিনি জানান, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পিওএস (পয়েন্ট অব সেলস) সফটওয়্যারটি। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রেতা সহজেই ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করে মুদ্রিত মেমো দেয়াসহ যাবতীয় বিক্রয়তথ্য, ভ্যাট ও অন্যান্য হিসাব রাখতে সক্ষম হবেন।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে এইচআরএম (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) সফটওয়্যারের প্রতি। দেশি-বিদেশি উৎপাদন ও পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গুরুত্ব পেয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এবং সিআরএম (কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট) সফটওয়্যার। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনকারীদের জন্য সহজেই ব্যবহারযোগ্য এমন সফটওয়্যার ডেভেলপের জন্য তারা ওয়ালটনের প্রশংসা করেন।

মেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রতিনিধিরা ডিজিসফটের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং এই সফটওয়্যার নিতে ইচ্ছুক, তাদের সঙ্গে খুব শিগগিরই আলোচনায় বসবে ওয়ালটন। উভয়পক্ষের চাহিদা মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান মেলায় থাকা ওয়ালটনের প্রতিনিধিরা।

এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা যেকোনো উদ্ভাবনী ধারণার প্রকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় একটি ‘আইডিয়া বক্স’ রেখেছিল ওয়ালটন। এখানে বেশ কিছু আইডিয়া জমা পড়েছে। এসব আইডিয়া যাচাই-বাচাইয়ের পর যেসব আইডিয়া উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে, সেগুলো প্রয়োগের পদক্ষেপ নেবে ওয়ালটন। আর সেটা সম্ভব না হলে যারা ওই আইডিয়ার সফল প্রয়োগ করতে পারবেন, তাদের কাছে ওয়ালটন বিষয়টি উপস্থাপন করবে।

একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা দেয়ার জন্য ওয়ালটন স্টলে ছিল ‘সিভি বক্স’। ওয়ালটনে চাকরিপ্রার্থীদের সিভিতে সে বক্স ভরে গেছে বলে জানা গেছে। এসব সিভি যাচাই-বাছাই করে সংরক্ষণ করবে ওয়ালটনের মানব-সম্পদ বিভাগ। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজন অনুযায়ী এখান থেকে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

উল্লেখ্য, যারা মেলায় আসতে পারেননি, তাদের জন্যও সিভি জমা দেয়ার সুযোগ থাকছে। এজন্য http://jobs.waltonbd.com/ নামের একটি ওয়েবসাইট ডেভেলপ করেছে ওয়ালটন। ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস