ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জামায়াতকে নেয়া ভুল ছিল: ড. কামাল

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রার্থী করা ‘ভুল’ ছিল বলে স্বীকার করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কামাল বলেন, আমার কথা আমি বলি, যেহেতু আমি অলরেডি পাবলিকলি বলেছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছি যে, ভাই এটা তো আমার জানাই ছিল না। তখন ওরা (বিএনপি) বললো না যে জামায়াতের ২৫ জন না কত .., আমি যখন এখানে সম্মতি দিয়েছি, সেটা আমাকে জানানো হয় নাই। আমরা মতে সেটাও একটা ভুল করা হয়েছে।

এখন কি তবে বিএনপিকে চাপ দেবেন জামায়াতকে ছেড়ে দিতে- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেল, আমি তো মনে করি, সেটা বলা যেতে পারে।

যদি বিএনপি জামায়তকে না ছাড়ে তাহলে কী করবেন- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হাইপোথেটিক্যাল প্রশ্ন… যদি বলে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না। যখন হবে তখন বলব।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপির টিকিট পাবে জানলে তিনি ঐক্যফ্রন্টের অংশ হতেন না।

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে কামাল হোসেন বলেছিলেন, ‘আমি যদি আগে জানতাম (যে জামায়াত নেতারা বিএনপির টিকিট পাবে), তবে আমি এর অংশ হতাম না। কিন্তু যদি এই ব্যক্তিগুলো ভবিষ্যতের সরকারে কোনো ধরনের ভূমিকা পালন করে, আমি একদিনও থাকব না।’

জামায়াত প্রশ্নে ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিংবা গণফোরাম কোন পথে হাঁটবে- জানতে চাইলে কামাল বলেন, আমাদের বক্তব্য একদম পরিষ্কার যে, জামায়াতকে নিয়ে আমরা রাজনীতি কখনও করি নাই। কোনোদিন করার কথা চিন্তাও করি নাই। যেটা করেছি। সেটা আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছি যে, এটা তো আমাদেরকে বলা হয়নি যে, তারা (জামায়াত) থাকবে এটার মধ্যে। ভবিষ্যতে এই ব্যাপারটি একদম পরিষ্কার, জামায়াতকে নিয়ে আমরা করব না।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি সরাসরিই জানিয়েছে যে তাদের দল থেকে নির্বাচিত ছয়জন শপথ নেবে না।

বৈঠকে সভাপতি কামাল ও সাধারণ সম্পাদক মন্টু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, এস এম আলতাফ হোসেন, আ ও ম শফিকউল্লাহ, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ৭০ জন।

মানবকণ্ঠ/এএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.