‘এসো হে বৈশাখ’ বাঙালির গোটা বছরের গান!

কথায় আছে মাছে-ভাতে বাঙালি। কেউ কেউ আবার মনে করে শুধু মাছ, মিষ্টি নয়, বরং তার সঙ্গে অ্যাডঅন হিসেবে গান-বাজনা বাঙালির প্রতিটি পার্বণের সঙ্গে একেবারে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত। গান-বাজনা ছাড়া যেন বাঙালি নিঃশ্বাসই নিতে পারে না। সকালবেলার চায়ের সঙ্গে রেডিওতে সুর, গাড়ি ড্রাইভ করে অফিসের পথে যেতে গানের মেজাজ। কানের মধ্যে ইয়ারফোন ঠেসে গানেই বাঙালির ডুব। প্রতিদিন থেকে পার্বণ, সবেতেই গানের সুরে বাঙালির মনভোলা! তাই বৈশাখের পহেলাতে গান ইজ মাস্ট! আর এ ব্যাপারে গান মানেই বাঙালির মনের ঠাকুর, রবিঠাকুরের গান। পহেলার গানে চিরন্তন আধিপত্য ‘এসো হে বৈশাখ’।

কিন্তু জানেন কি? রবিঠাকুর এই গান মোটেই পহেলা বৈশাখকে মাথায় রেখে লেখেননি! বরং বাঙালির রোজনামচাকে সুরে গেঁথে তৈরি করেছেন এসো হে বৈশাখের সুর! পহেলা বৈশাখে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটি গাওয়া হয় বলে অনেকে একে নববর্ষের গান বলে মনে করেন। কিন্তু আসলে, গানটি শুধু পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে লেখা হয়নি।

এটা মূলত বৈশাখের গান। বলা যায় বছরের প্রথম মাসের ঋতুবন্দনা করে রবিঠাকুর এটি রচনা করেছিলেন। এ গানের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির মধ্যে মানুষের মননের যে যোগাযোগ বা মিলন, তা তিনি প্রকাশ করেছেন। বৈশাখের বন্দনা করে রবিঠাকুর আরও অনেক গান লিখেছিলেন, তবে কেন এসো হে বৈশাখই হয়ে উঠল পহেলা বৈশাখের গান? এর শুরুটা একেবারেই ওপার বাংলা থেকে। ‘ছায়ানট সঙ্গীত ভবন’-এর তরফ থেকেই প্রথম বাংলাদেশে আয়োজন হয়েছিল পহেলা বৈশাখের। শুরু হয়েছিল প্রভাত ফেরির অনুষ্ঠানও। আর সেই অনুষ্ঠানেই প্রথমবার গাওয়া হয়েছিল এসো হে বৈশাখ। তারপর থেকেই এপার বাংলা ও ওপার বাংলায় জনপ্রিয় হতে শুরু করে রবিঠাকুরের এই গানটি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ