এসডিজি বাস্তবায়নের পথ সুগম হোক

বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০১৫ সালে ধরিত্রীর রূপান্তর: ২০৩০ সালের পথে টেকসই উন্নয়ন অভিযাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ায় শুরু থেকেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য পেয়েছে। ফলে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ১৪টিতেই সঠিক পথে এগিয়েছে সরকার। দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এসজিডি বাস্তবায়ন বিষয়ে আমাদের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরতে পারেন।
প্রকৃতপ্রস্তাবে এসডিজি বাস্তবায়নে রয়েছে নানারকম চ্যালেঞ্জ। তার পরও আমাদের অর্জন কম নয়। বর্তমান সরকার সেগুলো মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। দারিদ্র্য বিলোপের জন্য চরম দারিদ্র্য দূর করতে জাতীয় দারিদ্র্য সূচকে দিনপ্রতি ১ দশমিক ৯ ডলার হিসাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিতে সঠিক পথে রয়েছে দেশ। এ ছাড়া ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০১৭ সালে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য গর্ব করার মতো। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষার ক্রমবর্ধমান পরিধি এবং মোট সরকারি ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সেবার ওপর ব্যয় করা অর্থে অগ্রগতিও সঠিক ধারায় রয়েছে। এমডিজির বিপরীতে এসডিজি আরো ব্যাপক একটি উন্নয়ন এজেন্ডা এবং এটি উন্নয়নসংশ্লিষ্ট সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই সরকারের একক প্রচেষ্টায় এর উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করা কঠিন। এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘ তার সব সদস্য রাষ্ট্রকে ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা নীতি’ অনুসরণে জোর উৎসাহ প্রদান করেছে। এসডিজি লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন এবং অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকারও ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা নীতি’ গ্রহণ করেছে।
এমডিজি থেকে এসডিজির পরিসর অনেক বড়। বাংলাদেশ এমডিজি অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে। সবাই পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে এসডিজি অর্জনও সম্ভব। তবে এত বিশাল কাজ সম্পন্ন করতে হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়ন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং যৌথ প্রচেষ্টার ওপর নির্ভরশীল। এজেন্ডা ২০৩০-এর কার্যক্রম এমন একসময় শুরু হয়, যখন বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত অভীষ্ট-২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার পথে যাত্রা করেছে। সরকার একটি সমন্বিত রূপকল্প নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এসডিজি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এ দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করার কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণে সরকার অগ্রণী ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।