এবার যাত্রাবাড়ী-ডেমরা হবে ৪ লেন

যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর মহাসড়কটি বর্তমানে আট লেনে করা হলেও যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের উচ্চ টোলের কারণে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কে যান চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। একইভাবে কাঁচপুর ব্রিজের অত্যধিক চাপ কমাতে সিলেট রুটের যানবাহন তারাব-যাত্রাবাড়ী সড়ক ব্যবহার করায় যানজটও বাড়ছে। যদিও ডেমরা সড়কটি কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও সরু, আবার কোথাও অবৈধ দখলদারদের থাবায়। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে ঢাকার তীব্র যানজট কমাতে এবারে ‘যাত্রাবাড়ী (মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার)-ডেমরা (সুলতানা কামাল সেতু) মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প প্রস্তাব সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৮ কোটি টাকা। তা যাচাই-বাছাই করতে খুব শিগগিরই পিইসি সভা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার এ প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যতই দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে রাজধানীতে যানজট। তা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার, উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রামের প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর মহাসড়কটি আট লেনও করা হয়েছে। তারপরও কাঁচপুর ব্রিজের যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে ঢাকার প্রবেশের মুখে যানজট কমাতে যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-সুলতানা কামাল সেতু-তারাব মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল পিপিপির ভিত্তিতে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত এ নিয়ে বেশ তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা যাচাই-বাছাই করার পর বাতিল করা হয়। তবে বাতিল করার যুক্তিতে বলা হয়েছিল, সিলেট থেকে আসা যানবাহন যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু-তারাব মহাসড়কে টোল দেয়ার পর খুব কাছাকাছি এসে আবার হানিফ ফ্লাইওভারের টোল দিয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে হবে। পর পর ২টি অবকাঠামো ব্যবহারের জন্য যানবাহনগুলো টোল দিতে খুব একটা উৎসাহিত হবে না। তাই আর এগুতে পারেনি প্রকল্পটি। এর আগেও সংকীর্ণ ডেমরা সড়কটি প্রথমে যাত্রাবাড়ী থেকে কাজলা পর্যন্ত অংশ আট লেনে এবং পরে ডেমরা সুলতানা কামাল সেতু পর্যন্ত প্রসারিত করার উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ ধরনের একটি প্রকল্পের অনুমোদনও দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতায় আটকে যায়, দেখেনি আলোর মুখ। যদিও ২০১৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সিলেট, দক্ষিণ-পূর্বের চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লার গাড়িগুলোও মাঝেমধ্যে ঢাকায় প্রবেশের সময়ে ডেমরা সড়কটি ব্যবহার করে। যদিও সড়কটি খুবই সংকীর্ণ। এ জন্য হানিফ ফ্লাইওভার চালু হলেও তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর আট লেন হলেও হানিফ ফ্লাইওভারে উচ্চ টোল হারের কারণে ডেমরা সড়কে যান চলাচল অনেক বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ রোডে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আবার কাঁচপুর ব্রিজের অত্যধিক যানজট এড়াতে সিলেটের যানবাহন তারাব-যাত্রাবাড়ী সড়কটি ব্যবহারও করছে। কিন্তু ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-ডেমরা-শিমরাইল সড়কটি চওড়া মাত্র ৭ দশমিক ৩ মিটার। বেশি যানবাহনের চাপে এ রোডেও যানজট তীব্র আকার ধারণ করতে শুরু করেছে।

তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থেকে ডেমরা পর্যন্ত ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ১৫ দশমিক ৬০ মিটার চওড়া করে ৪ লেন করার উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য ৪ লেনের উভয় পাশে ২ লেন বিশিষ্ট পৃথক সার্ভিস লেনও নির্মাণ করা হবে। যাতে নির্বিঘ্নে ইঞ্জিনযুক্ত ও ইঞ্জিনমুক্ত যান চলাচল করতে পারে। এ ব্যাপারে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি তৈরি করে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের প্রধান কাজ ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার ৪ লেন মূল মহাসড়ক নির্মাণ, ধীরগতির যানের জন্য সার্ভিস লেন নির্মাণ ৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটার, ৫ মিটার উচ্চতা ৩টি আন্ডারপাস এবং ৩ মিটার উচ্চতার ৮টি আন্ডারপাশ নির্মাণ, ২৫ দশমিক ৭৪ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ১টি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৪ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ, ১১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেনসহ ফুটপাত নির্মাণ, ৪ হাজার ৭০০ মিটার বাঁধরক্ষাসহ টো-ওয়াল নির্মাণসহ সিগন্যাল, রোড মার্কিংসহ বিভিন্ন কাজ করতে হবে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২০ সালের জুনে। তাই যাচাই-বাচাই করতে খুব শিগগিরই পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই ভুলত্রুটি সংশোধন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেমরা রোডে দেখা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটের দূরপাল্লার বাসগুলো এ পথ দিয়েই চলাচল করে। পাশাপাশি অন্য সড়কের যানবাহনগুলোও ঢুকছে ওই সড়কে। ডেমরা সড়কে ফ্লাইওভার থেকে গাড়ি নামার লেনটি চালু হলেও গাড়ি ওঠার লেনটি চালু হয়নি। ফ্লাইওভারের প্রান্ত থেকেই স্বল্প দূরত্বের গাড়ি-হলার-রিকশাগুলো জট পাকিয়ে ফেলছে। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় প্রায় সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকছে। তাই সড়কটি ৪ লেন হলে ওই এলাকায় কোনো যানজট থাকবে না।

মানবকণ্ঠ/এএএম