এবারের গ্রন্থমেলায় রোদেলা নীলার ‘চায়ের কাপে অপেক্ষা’

জীবনানন্দ দাশ বলেছেন উপমাই কবিতা আর রবীন্দ্রনাথ স্বপ্ন। রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন কবিতাকে সৌন্দর্য নিষ্ঠ হতে হবে তারও আগে সত্য। আর রবীন্দ্রনাথের সত্য হচ্ছে আজকের বর্তমান। এই বর্তমানতা থেকে বেরিয়ে কাব্যশিল্প তৈরির প্রচেষ্টা হবে বায়ুভুকতুল্য এবং পলায়নবাদীতার সামিল। ঢঙ করে শিল্প হয় না, অন্তরের গভীর থেকে উৎসারিত অন্তর্দৃষ্টি হতে পারে কবিতা এবং এসব কিছু শিল্পীর মানসিক গঠনের ওপর নির্ভরশীল। আমি মনে করি চিত্তের বিশুদ্ধতা এবং ঘৃণার পবিত্রতা ছাড়া কবিতা হয় না। সাম্প্রতিক সময়ে কবিতাকর্মীরা কল্পনার স্ফূর্তিকে বিশেষভাবে অবলম্বন করতে চায় কিন্ত সে ক্ষেত্রে বস্তুর যথার্থ স্বরূপ জানা আবশ্যক।

ইদানিং এতো বেশি অনাবশ্যক কল্পনার বিস্তার দেখি যে কবিরা দশক ভাগ করে নিজেদের পরমায়ু নির্ধারণ করছে। এই সীমাবদ্ধ জলে দাঁড়িয়ে যারা কাব্যনদে অবগাহন করছে রোদেলা নীলা তাদের একজন। শূন্য দশকে তার ‘যাত্রা’ । শূন্যের মাপকাঠি অনেক বড়। দার্শনিক বিবেচনায় সৃষ্টি রহস্যের চাবিকাঠি শূন্যতত্ত্ব। এখন শূন্য দশকের যারা কবি তাদের মানস গঠন এবং কাব্য প্রকৌশল অন্যদের চেয়ে আলাদা হবে এটাই প্রত্যাশা। রোদেলা নীলা শূন্য দশকের কবি তার কবিতা একই সাথে রোমান্টিক ও আধুনিক। মুক্তচিন্তার কবির সত্য উচ্চারণের যে অঙ্গীকার থাকে দায়বদ্ধতা থাকে তা’ পেয়ে যাই নীলার কবিতায়।

‘আমি নারী হয়ে জন্মেছি
বছরের তিনশত পয়ষট্টি দিন
কড়ায় গ-গন্ডায়
হিসেব রাখতে হয়
দাড়ি পাল্লায় এক পাশে যদি একটু ভারি ঠেকে
তবে তীব্রবানে জবাব চায় কৈফিয়ত।’

নারী হিসেবে এই জবাবদিহিতার কাড়ানাকাড়া একুশ শতকেও জারি আছে। রোদেলা নীলা এই সামাজিক সত্যের ও বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দেয়াল ভাঙার বিধি তৈরি করতে চান। তার কবিতার একটা নিজস্ব আকাশ আছে। একটা স্বাধীন স্বপ্নভূমি আছে। উচ্চারণের নান্দনিক প্রকাশে পারঙ্গম এই কবির অপেক্ষা চায়ের কাপ থেকে সমুদ্রে সমুত্থিত হোক-এই প্রত্যাশা।

মানবকণ্ঠ/এএম