এতদিন পর আইন হচ্ছে চিড়িয়াখানার জন্য

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনা কিংবা পরিচালনার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আইন, বিধি বিধান তৈরি হয়নি। তবে এতদিন পর আইন তৈরি হচ্ছে চিড়িয়াখানার জন্য। বিশ্ব চিড়িয়াখান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ পেতে এই আইন প্রয়োজন। আর সেই সুবাদে বাংলাদেশ চিড়িয়াখানা আইন নামে একটি আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়।

প্রস্তাবিত আইনে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে গঠন করা হবে একটি চিড়িয়াখানা উপদেষ্টা কমিটি। যে কমিটি চিড়িয়াখানায় দর্শনাথীদের প্রবেশ ফি নির্ধারণ করবে। শুধু তাই নয়, প্রায় ৯টি কাজের ব্যাপারে তারা দেখভাল করবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের আবাসস্থলের ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা। আবদ্ধ অবস্থায় চিড়িয়াখানায় কোন কোন জাতীয় প্রাণী থাকবে আর তাদের আয়ুষ্কালের কত বছর পর্যন্ত প্রর্দশন করতে পারবে সে বিষয়ে পরামর্শ দেবে। এ ছাড়া প্রতি বছর প্রতিটি চিড়িয়াখানার বার্ষিক উন্নয়ন কার্যক্রম, আয় ব্যয়ের হিসাব নিকেশ নেবে।

প্রস্তাবিত আইনে কোনো অবস্থাতেই রুগ্ন, দুর্বল, কৃশকায় ও বয়স্ক প্রাণী প্রর্দশন করা যাবে না বলে বাধ্যবাধকতা করা হচ্ছে। সপ্তাহে একদিন চিড়িয়াখান বন্ধ রাখতে হবে। সবুজ বৃক্ষরাজির মাধ্যমে চিড়িয়াখানার প্রাকৃতিক পরিবেশ মনোরম ও আর্কষণীয় করার বিষয়টি গুরত্ব দেয়া হচ্ছে। চিড়িয়াখানার ২৫ শতাংশ জমি কেবলমাত্র বিল্ডিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর বেশি নয়। চিড়িয়াখানার ভেতরে কোনো অবস্থাতেই স্টাফ কিংবা অফিসারদের কোনো ধরনের কোয়ার্টার তৈরি করা যাবে না। প্রাণীর স্বভাব আর বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করতে হবে।

প্রাণীদের সেবার সুযোগ সুবিধার বিষয়টি প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। প্রত্যেক চিড়িয়াখানাতে ভেটেরিনারি চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা থাকতে হবে। আর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি রাখতে হবে। প্রত্যেক ভেটেরিনারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাণি চিকিৎসক থাকতে হবে। জাতীয় চিড়িয়াখানাতে প্রাণি পুষ্টি বিষয়ক ও রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা থাকতে হবে। বন্য প্রাণী প্রজনন কার্যক্রম নিয়ে প্রস্তাবিত আইনে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- সব প্রজাতির প্রাণীর জন্য প্রত্যেক চিড়িয়াখানাতে স্টাডি বুক সংরক্ষণ করতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে দর্শনার্থীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে তিনটি গুরত্বপূর্ণ বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দর্শনার্থীর নিরাপত্তা বিধান, টয়লেট, দর্শনার্থী শেড, পানীয় জল, রেস্তোরাঁ। চিড়িয়াখানার ভেতরে দর্শনার্থীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। বৃদ্ধ, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা।

শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানার প্রতিটি খাঁচায় প্রদর্শিত প্রাণীর জীবন বৃত্তান্ত সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিটি চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীদের জন্য লিফলেট, গাইড বই অল্প দামে সরবরাহ করতে হবে। জু-ইনভেন্টারি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জš§-মৃত্য, কেনাবেচাসহ বিভিন্ন রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে। মিনি চিড়িয়াখানা, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি চিড়িয়াখানায় মহাপরিচালক কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবেশ করতে পারবেন। চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের সময় কোনো দর্শনার্থী যদি চিড়িয়াখানার কোনো নিয়ম না মানে আর সেই দর্শনার্থী যদি কোনো ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয় তা হলে তার দায় দায়িত্ব চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বহন করবে না।

প্রস্তাবিত আইনে শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কেউ যদি চিড়িয়াখানার বিধি বিধান না মানে তা হলে তার জন্য এক বছরের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড কিংবা ৫০ হাজার টাকা জরিমান হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.