এখনো অশ্রু ঝরে!

এখনো অশ্রু ঝরে!

মিরসরাই ট্র্যাজেডির অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও আজও থামেনি স্বজনদের আহাজারি। ২০১১ সালের ১১ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৫ পরিবারের স্বজনদের সেদিনের দুর্ঘটনার কথা মনে পড়তেই কেঁদে ওঠেন নিহতদের স্বজনরা। সেদিন দুপুরে মিরসরাই সদরের স্টেডিয়াম থেকে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের পশ্চিম সৈদালী এলাকায় তেঁতুলতলা নামক স্থানে সড়কের পাশের ডোবায় শিক্ষার্থী বহনকারী মিনিট্রাকটি উল্টে পড়ে ৪২ শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। মুহূর্তেই পুরো মিরসরাই নয়, সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘোষণা করা হয় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক।

নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সমবেদনা জানাতে সেদিন ছুটে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।

পাশে এসে দাঁড়িয়েছে দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অগণিত কর্মীবাহিনী ছুটে এসেছেন সরেজমিনে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে। বর্তমানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উদ্যোগে সেই খাদে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ ‘অন্তিম’। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে স্মৃতিসৌধ ‘আবেগ’ নির্মাণ করেন তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। এই দুটি স্মৃতিসৌধে প্রতিবারের মতো এবরো শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

এই ট্র্যাজেডিকালীন তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন নিহতদের পরিবারের সহমর্মিতাসহ সরকারি-বেসরকারি সব বিষয়ে প্রাণান্তর সহযোগিতা করেছেন সবাইকে। আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার জানান, সকাল ৮টায় ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম অবলম্বনে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, সকাল ৯টায় কালো ব্যাজ ধারণ, সকাল ১০টায় শোক র‌্যালি, ১০.৩০-এ আবেগ থেকে অন্তিমে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ১১টা থেকে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান ও মায়ানী ইউপি চেয়ারম্যান কবির নিজামী জানান, সমবেত ছাড়া ও পৃথক পৃথকভাবেও অনেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। আবার পৃথক কর্মসূচি পালন করে প্রফেসর কামাল উদ্দিন চৌধুরী কলেজ, আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসা ও আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য শেখ আতাউর রহমান বলেন, মিরসরাই ট্র্যাজেডি একটি দুঃসহ কান্নার নাম। আজও ৪৫ পরিবারে স্বজনহারাদের শোকার্ত মুখগুলোর বুকে ঝরবে কান্না। এই কান্নার জন্য শুধু আমরা সবাই যুগে যুগে সমব্যথিত। তবে সহস বছর ধরে এই শিশুরা মানুষের মনে গেঁথে রইবে ইতিহাস হয়ে। আমাদের সবার কামনা এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কোনদিন না ঘটে পৃথিবীর কোথাও।

২০১১ সালের ১১ জুলাই ঘটনাস্থলে নিহতরা হলো- তাকিব উল্ল্যাহ মাহমুদ সাকিব, আনন্দ চন্দ্র দাশ, নুর মোহাম্মদ রাহাত, জাহেদুল ইসলাম, তোফাজ্জল ইসলাম, লিটন চন্দ্র দাশ, আরিফুল ইসলাম, উজ্জ্বল চন্দ্র নাথ, তারেক হোসেন, মোহাম্মদ সামছুদ্দিন, মেজবাহ উদ্দিন, ইমরান হোসেন ইমন, কাজল চন্দ্র নাথ, সূর্য চন্দ্র্র নাথ, ধ্রুব নাথ, সাজু কুমার দাশ, আবু সুফিয়ান সুজন, রুপন চন্দ্র নাথ, সামছুদ্দিন, আল মোবারক জুয়েল, ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, আমিন শরীফ, শরীফ উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন, রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী, কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, তারেক হোসেন, নয়ন শীল, জুয়েল বড়ুয়া, রায়হান উদ্দিন, এসএম রিয়াজ উদ্দিন, টিটু জল দাশ, রাজিব হোসেন, আশরাফ উদ্দিন, জিল্লুর রহমান, জাহেদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, আশরাফ উদ্দিন পনির, রায়হান উদ্দিন শুভ, মঞ্জুর মোর্শেদ, সাখাওয়াত হোসেন নয়ন, আনোয়ার হোসেন এবং হরনাথ দাশ।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.