এখনো অবিক্রীত সাড়ে ১২ হাজার টিকিট

বাংলাদেশ থেকে আর মাত্র এক দিন পর শনিবার (১৪ জুলাই) শুরু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হজ ফ্লাইট। তার পরও বিমানের হজ ফ্লাইটের সাড়ে ১২ হাজার টিকিট এখনো সংগ্রহ করেনি হজ এজেন্সিগুলো। বিমান বলছে, এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট সংগ্রহ না করলে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নতুন সময়সীমা দেবে না সৌদি আরব। এতে হজযাত্রীদের একটি অংশকে সৌদি আরব যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিমান। তাই সুষ্ঠু হজযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে দ্রুত টিকিট সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে বিমানের পক্ষ থেকে।

পবিত্র হজ শেষে ২৭ আগস্ট প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে। গতকাল বুধবার সকালে হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেবে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৩ হাজার ৬শ’ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে নেয়ার অনুমতি পেয়েছে বিমান। গত হজ মৌসুমে হজযাত্রী না পাওয়ায় ২৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। শেষ মুহূর্তে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সøট বরাদ্দ নেয়া হয়। এবার আর সে সুযোগ থাকছে না।

এ প্রসঙ্গে বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে দ্রুত টিকিট সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করেছি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে এ বছর ভিসার আগেই সব এজেন্সিকে তাদের যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। এর পরও ২৫ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন হজ ফ্লাইটের টিকিট এখনো নেয়নি কিছু সংখ্যক হজ এজেন্সি। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টিকিট এখনো অবিক্রীত রয়েছে।

শাকিল মেরাজ আরো বলেন, হজযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিমানের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বছর সৌদি সরকার অতিরিক্ত হজ ফ্লাইটের অনুমোদন দেবে না। ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটে যাত্রী কম গেলে অন্যদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তছলিম বলেন, গত বছর এ সময়ে ৭ হাজারের মতো টিকিট এজেন্সিগুলো সংগ্রহ করেছিল। সে তুলনায় এ বছর এজেন্সিগুলো সর্বোচ্চ সংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করেছে। এর পরেও সব এজেন্সিকে আমাদের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকিট সংগ্রহ করে। আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।
অন্যদিকে টিকিট না পাওয়ার জন্য বিমানের ওপর কিছুটা দোষারোপ করেছে হাব। সংগঠনটি বলছে, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৯ মে এক নির্দেশনায় ২০ মের মধ্যে টিকিট সংগ্রহের জন্য সব এজেন্সিকে নির্দেশনা দেয়। সেখানে বলা হয়, ফ্লাইট সিডিউল ঠিক রাখতে হজ এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীদের ফ্লাইট বুকিং সম্পন্ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে ২০ মের মধ্যে জমা দিতে হবে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে বিমান চাহিদা অনুযায়ী এজেন্সিগুলোকে টিকিট সরবরাহ করতে পারেনি।

২১ জুন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে যেসব হজ এজেন্সি এখনো বিমানের টিকিট কিনে ভিসা সংগ্রহ করার জন্য ঢাকার হজ অফিসে হজযাত্রীদের পাসপোর্ট জমা করেনি, তাদের দ্রুত এ কাজ করতে হবে। কারণ, এ বছর নির্ধারিত সিডিউলভুক্ত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনে ব্যর্থ হলে সৌদি আরবে কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত কোনো স্লট বরাদ্দ পাওয়া যাবে না।

এ বছর ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। এসব উড়োজাহাজে আসন সংখ্যা ৪১৯। অন্য পথে ফ্লাইট সিডিউল ঠিক রাখতে ৪টি বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুই মাসের জন্য ইজারা নিয়েছে বিমান। এর মধ্যে ৩টি উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হয়েছে, আরেকটি শিগগিরই যোগ হবে। ফ্লাই গ্লোবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জুলাই থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ৩টি উড়োজাহাজ ভাড়া করেছে বিমান।

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার সম্ভাব্য হজের তারিখ হতে পারে ২১ আগস্ট। এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৬ হাজার ৭৯৮ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ১ লাখ ২০ হাজার। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার ৫২৮টি হজ এজেন্সি হজের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৫শ’ জনের ভিসা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের পক্ষে অধিকাংশ এজেন্সি বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করেছে। এ বছর বাংলাদেশ বিমানের টিকিট পাওয়া সহজ করতে এজেন্সিগুলো সরাসরি বাংলাদেশ বিমান থেকে হজযাত্রীর সমপরিমাণ টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে।

হজ কোটা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের স্ক্রলে বার বার ভেসে আসে চলতি বছর দেশের মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রী হজ পালন করবেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিদিন প্রকাশিত বুলেটিনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার ৭৯৮ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজারসহ মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ হচ্ছে।

যোগ-বিয়োগের হিসাবে ৪শ’ জনের ফারাক। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, সৌদি সরকারের সঙ্গে হজ চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ থাকলেও নানা বিবেচনায় সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪শ’ হজযাত্রীর কোটা সারেন্ডার করা হয়েছে। যার ফলে এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজে যাচ্ছেন। এখনো বাড়িভাড়া করতে পারেনি ৩০২ হজ এজেন্সি: অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫২৮টি হজ এজেন্সির মধ্যে ৩০২ এজেন্সি সৌদি আরবে এখনো বাড়ি ভাড়ার কাজ শেষ করতে পারেনি।

মানবকণ্ঠ/এএএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.