এক পেশাদারের কলমে নগরীর গন্ধমাখা প্রেম-বিরহের আখ্যান

কোনো ঘোর নেই, নেই কোনো প্রহেলিকা। সোজাসাপ্টা ভাষায় নিজের কথাটাকেই কবিতার ছাঁচে ফেলে বলা। পেশাদার জীবন এবং প্রেম-বিরহ-আবেগ আর ভালোবাসার আশ্চর্য মিশেলে নিজের জীবনদৃষ্টির এক সরল সৃষ্টিশীল প্রকাশ। বইটির নাম ‘শাওন রাতে সুনয়না’। ৪২টি কবিতার সংকলন এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে কারুবাক প্রকাশনী (স্টল নম্বর: ৫৩৭, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।

বইটির লেখক কামরুল হাসান সোহাগ পেশায় নগর পরিকল্পনাবিদ। পেশাদারিত্বের বাইরেও তার ধ্যান লেখালেখিতে। শব্দের শক্তিতে তার পূর্ণ আস্থা। এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘শাওন রাতে সুনয়না’। গত বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভালোবাসা এই চিরহরিত্’।

কামরুল হাসান সোহাগের প্রতিভাও বহুমাত্রিক। তিনি একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার। এবারের বইমেলায় কারুবাক থেকেই আসছে তার প্রথম উপন্যাস ‘ছায়া মামনি’। ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে বাবা-মার স্নেহবঞ্চিত শিশুদের দুঃখ ও অসহায়ত্বের এক মানবিক উপাখ্যান ‘ছায়া মামনি’। ডে কেয়ার সেন্টারে প্রতিপালিত শিশুদের যন্ত্রণার এক কোমল ভাষ্য এই উপন্যাস। এছাড়াও, ভাষাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ‘বিট্টুর নতুম বেব্লেড’।

কামরুল মনে করেন তাঁর বইগুলো পাঠকেরা গ্রহণ করবেন। তার বক্তব্য, বাস্তব জীবনের সত্য ছবিকে তিনি সাবলীল ভাষারূপ দিয়েছেন। তার প্রতিটি বাক্যই খুব সহজে বোধগম্য। বর্তমান সময়ের মানুষ জটিলতা তেমন পছন্দ করে না। তাই তার প্রত্যাশা, তিনি সত্যিকারের পাঠকদের সাড়া পাবেন।

সৃষ্টিশীল এসব কাজেই শুধু নয়, পেশাদার জীবনেও কামরুল হাসান সোহাগ সমান সব্যসাচী। ২০০৪ সালে রাজউকে যোগ দেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উপনগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করছেন। নগরায়ন ও সরকারব্যবস্থা এবং নগর পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের ওপর তার চারটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) বোর্ড মেম্বারও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বিআইপি জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন সদস্য কামরুল হাসান সোহাগ।

১৯৭৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর খুলনার ডুমুরিয়ায় এই লেখকের জন্ম। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার বাবা ও শিক্ষিকা মায়ের সন্তান তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতকোত্তর শেষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দাতা সংস্থায় কাজের মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু। ‘কেয়ার বাংলাদেশ’-এ টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন চার বছর। সবশেষ ২০০৪ সালে যোগ দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ