এক কমিটিতেই তেরো বছর পার!

এক কমিটিতেই তেরো বছর পার!

সম্মেলন না হওয়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ আলাদা একক কমিটি নিয়ে ১৩টি বছর পার করছে। ২০১২ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জাতীয় সম্মেলনে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির ১০১ সদস্য বিশিষ্ট করার প্রস্তাব পাস করা হয় কিন্তু এখনো ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি দিয়ে সংগঠনের কাজ করছেন বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দীর্ঘ সময়ে মহানগরের দুই অংশ এখনো কয়েকটি থানা কমিটিও দিতে পারেনি। পুরনো বেশ কয়েকটি থানার পাশাপাশি নতুন থানাগুলোতেও কমিটি নেই। ১৭ বছর আগে দেয়া কমিটি দিয়েই চলছে কয়েকটি থানা। দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় সংগঠনের কাজ এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। মহানগরের নেতারা বার বার কেন্দ্রীয় নেতাদের কথা বললেও কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, অতি শিগগিরই করা হবে সম্মেলন আর নতুন কমিটি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৩১ মে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগরকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। সেই থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই সম্মেলনটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হয়েছিল। তার আগে একটি কমিটি দিয়েই চলছিল ঢাকা মহানগরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি। এর আগে ১৯৯৪ সালে ঢাকা মহানগর কমিটি হয়েছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের ২৭ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জাতীয় সম্মেলন হয়। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করেছিলেন সাবেক সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ। তাদের স্বাক্ষরেই মহানগরের বর্তমান দুই কমিটি ঘোষণা হয়েছিল। তারপর আর নতুন কমিটি করা হয়নি। তবে দুই সিটির মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি থানা ছাড়া সব থানাই নতুন কমিটি দিয়েছে বর্তমান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। বর্তমানে কেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মোল্লা মো. আবু কাওছার বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ। তিনি আসার পর থেকে বেশ কয়েকটি থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দিয়েছেন। তবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন দীর্ঘ ১৩ বছর না হওয়ার কারণে সংগঠনটির উত্তর এবং দক্ষিণে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। হতাশ হয়ে পড়েছেন ত্যাগী নেতারা। সম্মেলনে মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের তাগিদ থাকলেও তা বাস্তবায়নে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৩ বছর আগে সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের। সেই সম্মেলনে উত্তরের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোবাশ্বের চৌধুরী। আর ফরিদুর রহমান খান ইরান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরা দু’জনই এখন আবার সিটি কর্পোরেশন উত্তরের কাউন্সিলর। ডিএনসিসির গত নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ড থেকে মোবাশ্বের আর ২৭নং ওয়ার্ড থেকে ইরান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন তারা নিজ এলাকা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ ছাড়া এই কমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্ব পান মো. গোলাম রব্বানী। সহ-সভাপতি হন যথাক্রমে- শফিকুল ইসলাম, এসএম জামাল তাহের, কামরুল হাসান বকুল, আবুল কালাম, মনিরুজ্জামান টুটুল, এইচ এম জাহাঙ্গীর। যুগ্ম সাধারণ পদে দায়িত্ব পান আফরোজ হামীম, হাবিবুর রহমান পান্না। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রয়াত ফরহাদ হোসেন, একে এম মনোয়ারুল বিপুল, আব্দুল অহিদ মিন্টু, দফতর সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রধান, সহ দফতর-মিজানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, সহপ্রচার এম কে আজাদ খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক, অর্থ সম্পাদক মামুন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহেল, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক অমিত কুমার দাস, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন শরীফ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক- সুলতানা মরিয়ম, সহ মহিলা সম্পাদক কাজী শিরীন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নূরে আলম, সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত মাহাবুবুর রহমান ডামাসহ ৭১ সদস্যের বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। অপর দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন দেবাশীষ বিশ্বাস। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুর রহমান টিটু।

জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বেশ কিছু থানা কমিটি এখনো চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। এমনকি মহানগরের দুই শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান নেতৃত্ব। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের অন্তর্গত থানা রয়েছে ২৩টি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন আরো তিনটি থানা গঠন করা হয়েছে। থানাগুলো হলো- হাতিঝিল, উত্তরা (পূর্ব) উত্তরা (পশ্চিম)। এগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো কমিটি নেই। তবে উত্তরা থানার কমিটি আছে। ২০০২ সালে মিরপুর ও বিমানবন্দর থানার এবং ২০০৬ সালে গুলশান ও ক্যান্টমেন্ট থানার কমিটি দিয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এখনো সেই কমিটি দিয়েই এই থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যক্রম চলছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহানগর কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা বলেন, ছাত্রলীগের মহানগরের সম্মেলন হওয়ার পর বাদ পড়া নেতারা এবং তাদের অনুসারীরা সংগঠনের কোনো ফোরামে জায়গা পাচ্ছেন না। স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান নেতারা ছাত্রলীগ থেকেই এসেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় এখন তারা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস