একরাম হত্যায় ৩৯ জনের ফাঁসি, খালাস ১৬

ফেনীর চাঞ্চল্যকর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মো: আদেল ও ফুলগাজি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ চৌধুরীসহ ৩৯ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়া এ মামলায় বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনার ও যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিষ্টার সহ ১৬ আসামিকে বেকুসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মো. আমিনুল হক মঙ্গলবার বিকেল তিনটা পনের মিনিটে জনার্কীণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

প্রায় চার বছর আগে ২০১৪ সালে ২০ মে ফেনী শহরের বিলাসী হল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে একরামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং তার মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। জাতীয় ও আন্তজাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয় । বিচারক মো. আমিনুল হক বহু প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেন। রায়ে আসামিদের সাজার অংশটি কেবল তিনি পড়িয়ে শুনান।

এ মামলার প্রধান আসামি জেলা তাঁতী দলের সভাপতি মিনার চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আদেল , যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টার, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ শিবলুসহ পয়ত্রিশ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকি একুশ আসামি এখনো পলাতক।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল ও জেলা কৃষক দল নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন নির্লিপ্ত। বিচারক রায় পড়া শেষ দণ্ডিতদের কেউ কেউ কাঁদতে শুরু করেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত একরামের স্ত্রী তাসমীন আক্তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা চাই, এই রায় দ্রুত কার্যকর হোক।

একরামের ভাই মামলার বাদী জসিম উদ্দিন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি মুঠো ফোনে বলেন, আসামিদের সাজা দ্রুত কার্যকর হোক- এটাই তাদের চাওয়া।

সাজাপ্রাপ্তরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তবে মিনারের আইনজীবীরা বলেন ন্যায় বিচার পেয়েছি। সাধারণ মানুষ এই রায় ‘মানুষের আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব’ দূর করতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

সকার পক্ষ হয়ে এ মামলা লড়েন পিপি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমেদ রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আমরা খুশি হয়েছি। ৩৫ জন আসামির মধ্যে সবার মৃত্যদণ্ড হলে আরো বেশি খুশি হতাম। যে ১৬ জনের ফাঁসির রায় হয়নি, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা দেখে প্রয়োজনে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

২০১৪ সালের ২০ মে ফেনীর বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি একরামুল হককে প্রকাশ্যে গুলি করে, কুপিয়ে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মাহাতাব উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২৮ অগাস্ট ৫৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। হত্যার প্রায় দুই বছর পর ২০১৬ এর ১৫ মার্চ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু করে আদালত। এ বছরের ২৮ জানুয়ারি এ মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

এ মামলায় বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪৪ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ১৫ জন। আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন মিনার চৌধুরীসহ ৩৬ জন। আর জামিনে বেরিয়ে পলাতক রয়েছেন নয়জন। এছাড়া মামলার শুরু থেকে ১০ আসামি পলাতক এবং সোহেল ওরফে রুটি সোহেল নামে এক আসামি র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/আরএ