একজন নারী যখন নিঃসন্তান

মাহমুদ সালেহীন খান :
আধুনিক সমাজ আমাদের শিখিয়েছে ঘর মানেই পরিবার, যার মূল ভিত্তি পিতৃতান্ত্রিক নিয়ম-নীতি মেনে। সেই ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেলে মেয়েদের কত রকম অবমাননা সহ্য করতে হয়। তার হিসাব কে রাখে? কিছু চিত্র আমরা দেখতে পাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অভিজ্ঞতায় আমাদের পথ চলায়। আর তখনই মনে হয় এটা কি আমাদের আধুনিক সমাজের প্রকৃত চেহারা? শ্বশুরবাড়িতে বারবার গঞ্জনার শিকার হতে হয় নারীকে সন্তানহীনতার জন্য। আগে নিজে বুঝতে হবে। তারপর বোঝাতে হবে এটা আপনার দোষ না। বিষাদে ডুবে যাওয়াটা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। কী করবেন অথবা করবেন না তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
দুটি গল্প দিয়ে লেখাটা শুরু করি। প্রথমজন হচ্ছে মিতা আর আসিফ (ছদ্মনাম)। ঢাকার শ্যামলীতে থাকেন। বিয়ে করেছেন তিন বছর হয়ে গেল। নিজেদের ক্যারিয়ারের নানাবিধ বিষয় মাথায় রেখে তারা সন্তানের ভাবনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। কিন্তু সবার জিজ্ঞাসু চোখ আর অবারিত প্রশ্নবানে জর্জরিত আসিফ মিতা কাউকেই বোঝাতে পারছে না যে এটা তাদের পরিকল্পনাসম্মত। আবার জায়েদ আর আফসানার কথা ভিন্ন। তাদেরও বিয়ের ৩ বছর হতে চলল। আজ অবধি তাদের কোনো ছেলেমেয়ে হয়নি। আর তা নিয়ে বাড়িতে, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে টিপ্পনি কিংবা সমবেদনা কোনোটাই ভালো লাগে না আফসানার। লজ্জায় এবং দ্বিধায় সে বলতে পারে না। তাদের স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ক প্রথম থেকে প্রায় নেই বললেই চলে এর জন্য দায়ী জায়েদ। বিয়ের সুস্থ আনন্দ না থাকলেও সেটাকে টিকিয়ে রাখার প্রবণতা প্রায় বেশিরভাগ মেয়েদেরই থাকে। এই প্রবণতা যতটা না ব্যক্তিগত তার চেয়ে বেশি হলো সামাজিক।
কী করবেন:
১. সন্তান না হওয়ার জন্য পুরুষেরও যে দায় থাকতে পারে তা নিয়ে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আলোচনা করুন।
২. স্বামীকে বোঝান সন্তান জন্ম দিতে না পারাটা আপনাদের কারোরই অপরাধ নয়। ভেঙে পড়ার কিছু নেই।
৩. পূর্ব-পরিকল্পনার কথা সমবয়সী কাউকে বলে রাখতে পারেন।
৪. অহেতুক তর্কে না গিয়ে ডাক্তার দেখানোর কথা ভাবুন।
৫. ছেলেরা প্রথমে নিজেদের অক্ষমতার কথা মানতে চান না। আপনার দায়িত্ব তাকে বোঝানো। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা।
৬. যা নেই তা নিয়ে আক্ষেপ না করে যা আছে তা নিয়েই আনন্দে থাকুন।
৭. সন্তান হওয়ার ব্যাপারে আপনার অসুবিধার ব্যাপারে নিশ্চিত হলে দত্তক নেয়ার ব্যাপারে ভাবতে পারেন। স্বামী বা পরিবারের অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।
কী করবেন না :
১. অকারণ হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। ২. ঝগড়া বা তর্ক করবেন না। ৩. ‘আপনার ছেলেকে বলুন’ এই জাতীয় কথা ভুলেও বলবেন না। ৪. স্বামীর ওপর রাগ দেখাবেন না।