এইচআইভি ভাইরাসমুক্ত হলেন দ্বিতীয় একজন

বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী এইডস ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য পেয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। এই সাফল্য এইডসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেন সুখবর এনে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে। এমনটিই জানানো হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইচআইভি–আক্রান্ত এক রোগীর দেহ এইডস ভাইরাসমুক্ত করা গেছে। ব্রিটেনের এক ব্যক্তি বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের মাধ্যমে এইডস থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন। এইচআইভি প্রতিরোধী বোন ম্যারো স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের প্রায় তিন বছরের মাথায় তার শরীর থেকে এইচআইভির জীবাণু সম্পূর্ণরূপে দূর করা গেছে।

ঐ রোগীর নাম দেয়া হয়েছে, ‘লন্ডন পেশেন্ট’। নতুন করে এইচআইভি থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় হওয়ার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানে উম্মোচিত হয়েছে নতুন দিগন্ত।

চিকিৎসক দলের এক সদস্য রবীন্দ্র গুপ্তা জানান, ২০০৩ সালে ‘লন্ডন পেশেন্ট’ এইচআইভি-তে আক্রান্ত হন এবং ২০১৭ সালে তিনি হজকিন্স লিম্ফোমা নামক এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সারেও আক্রান্ত হন। ২০১৬ সালে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার বাঁচার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়ে। সেই সময় চিকিৎসকরা তার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত নেন।

অস্ট্রেলিয়ার ডোহারটি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটির সহসভাপতি শ্যারন লেউইনের বলেন, লন্ডনের ঘটনা এইডসবিষয়ক গবেষণায় নতুন পথের সন্ধান দিচ্ছে। এইচআইভির চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। তবে এ উদ্যোগ একদিন এই ভাইরাস নির্মূলে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে টিমোথি ব্রাউন নামক এক আমেরিকান ব্যক্তি এইচআইভি-তে আক্রান্ত হন এবং তিনি চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। তিনিই বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যিনি এইচআইভি থেকে নিষ্কৃতি পান এবং এখনও পর্যন্ত তিনি রোগমুক্ত আছেন। তবে এরপর দ্বিতীয় কোন ব্যক্তিকে একই পদ্ধতি চিকিৎসা দিয়ে ভাইরাস মুক্ত করা গেছে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এইচআইভি-তে আক্রান্ত। ১৯৮০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সাড়ে ৩ কোটি মানুষ মারা গেছেন এই রোগে। তবে কয়েক বছর আগে উদ্ভাবিত জটিল ভাইরাস দিয়ে তৈরি ওষুধ দ্বারা এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এএম