উড়োজাহাজ বানাল গোপালগঞ্জের কিশোর আরমান

রাজীব আহম্মেদ রাজু, গোপালগঞ্জ:
বয়স এখনো ১৭ পার হয়নি। কৈশোরের বৃত্তেই তার অবস্থান। তবে স্বপ্ন তার আকাশছোঁয়া। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন জয়ের আশা নিয়ে তার এগিয়ে চলা। প্রথমে কাগজ দিয়ে ছোট ছোট উড়োজাহাজ বানিয়ে বাড়ির পাশে খেলার মাঠে ওড়াতেন আর স্বপ্ন দেখতেন আরো ভালো কিছু করার। তারই ধারাবাহিকতায় আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দিয়ে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাঝারি উড়োজাহাজ বানিয়ে স্বপ্ন পূরণের আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। বলা হচ্ছে গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রামের কিশোর আরমানুল ইসলাম আরমানের কথা। যিনি উড়োজাহাজ বানিয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। শুধু উড়োজাহাজ দেখতেই নয়, তাকে দেখতেও প্রতিদিন শত শত মানুষের ভিড়।
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের মো. হাফিজুর রহমান সমাদ্দারের একমাত্র ছেলে আরমানুল ইসলাম। তিনি একই উপজেলার রামদিয়া এসকে কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
আরমান ২০০১ সালের ১ আগস্ট রাজবাড়ী জেলায় জš§গ্রহণ করেন। বাবার চাকরির সুবাদে ২০১৭ সালের বাগেরহাট জেলার বেতাগা ইউনাইটেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন।
তার বাবা বর্তমানে বাগেরহাটের মংলায় ব্র্যাক এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়েও আরমানুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্ভাবনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে মনে করেন তার কলেজেরে অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার মানুষ।
তারা বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরমানের এ আবিষ্কার দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ছোটবেলা থেকেই উড়োজাহাজ বানানোর ইচ্ছা ছিল আরমানের। আর তাই তখন থেকেই সোলা ও কাগজ দিয়ে ছোট ছোট উড়োজাহাজ বানিয়ে ওড়ানোর চেষ্টা করতেন।
নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন একটি উড়োজাহাজ বানানোর মনস্থির করেন আরমান। কিন্তু অর্থনৈতিক দৈন্যতার কারণে তখন পেরে উঠেনি। এমনকি এসএসসি পাস করার পর গ্রামের বাড়িতে চলে আসতে হয় তাকে। আর তাই বাড়ির অদূরে রামদিয়া এসকে কলেজে ভর্তি হওয়া তার।
কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আবারো উড়োজাহাজ বানানোর জন্য মনস্থির করেন আরমান। যেটি বানাতে তার প্রয়োজন ছিল ১২ হাজার টাকা। আর এ টাকার একটি বড় অংশ দেন তার দাদি হাফিজা বেগম। বাকি টাকা দেন তার বাবা এবং তার সহযোগী (চাচাতো বোন) সিতারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাসিয়া আকতারের বাবা দুবাই প্রবাসী এনামুল হক।
গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে শুরু হয় আরমানের উড়োজাহাজ বানানোর কাজ। সপ্তাহ দুয়েক চেষ্টার পর অবশেষে গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষামূলক আকাশে উড়ে তার উড়োজাহাজটি। ওইদিনই বাড়ির পাশের মাঠে উড়োজাহাজটিকে উড়ানো হয়।