উৎসবের ঢংয়ে বিজয় স্মরণীয় করে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় উদযাপন করতে ১৯ জানুয়ারি রাজধানীতে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয় বারের মতো বিজয়ের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তা পালন করতে যাচ্ছে দলটি। ফলে এই মহাসমাবেশকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় তারা। গতানুগতিক সমাবেশের বাইরে গিয়ে এই আয়োজনকে উৎসবের ঢংয়ে পালন করতে চাইছে ক্ষমতাসীনরা। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডের নেতারাও ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেয়ে গেছেন। নিজেরাও প্রস্তুতি নিচ্ছে মহাসমাবেশকে উৎসবমুখর করার।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিলসহ কোনো ধরনের ‘বাড়াবাড়ি’ না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। এবার মহাসমাবেশ করে সেই বিজয় উদযাপন করবে এক দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা দলটি। দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে মহাসমাবেশকে সফল করতে ইতিমধ্যেই নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। গত শনিবার দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং ঢাকা ও এর আশপাশের জেলার নেতা এবং দলীয় এমপিদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে মহাসমাবেশ সফল করতে নানা দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উল্লেখিত জেলার সব উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের এক যৌথ সভা ডেকেছে দলটি। ১৯ জানুয়ারির সমাবেশকে সফল করতে শনিবার বিকেলে মতবিনিময় সভা করেছে ৫০নং ওয়ার্ড যুবলীগ। এতে ৫০নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সায়েম খন্দকার সভাপতিত্ব করেন। মহাসমাবেশকে সফল করতে গতকাল বিকেলে রায়েরবাগ মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্যোগে এক বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন মাতুয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুরুল আমিন নীরু।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ছাড়াও এর পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও মুন্সীগঞ্জ জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে মহাসমাবেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। বাস, ট্রাক ও রেলপথে নেতাকর্মী ঢাকায় এসে বর্ণিল মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী ময়দানে সমবেত হবেন। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের দলীয় এমপিরা মিছিল সহকারে মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। এ ছাড়া মহাসমাবেশ ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় স্থান পাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের তথ্য সংবলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। নৌকা আকৃতির মঞ্চের পাশাপাশি পুরো সোহরাওয়াদী উদ্যানজুড়ে থাকবে আলোকসজ্জা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয় হয়েছে। আগামী ১৯ তারিখ রাজধানীতে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আমরা সবাইকে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এই মহাসমাবেশ সফল করব।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৩ আসনের এমপি সাদেক খান দৈনিক মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে আমরা আগামী ১৯ তারিখে লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিশাল র‌্যালি ও মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে সমবেত হব। আমরা আগামী ১৫ তারিখে আমাদের মহানগর উত্তরের একটি মিটিং ডেকেছি। ধানমণ্ডির-২৭ হোয়াইট হলে। মহানগর নেতারা, কমিশনার ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন থানার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা মহানগর উত্তর থেকে লক্ষাধিক জনতা ও নেতাকর্মী সমাগম করতে পারব।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ মানবকণ্ঠকে বলেন, ১৯ তারিখের মহাসমাবেশে মানুষের ঢল নামবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করেছে। আমরাও জোরালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। ইতিমধ্যে সংগঠনের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নির্দেশে ৭৫টি ওয়ার্ডে ও ২৫টি থানায় পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন মহানগরের শীর্ষ নেতারা। আজ বুধবার সকালে বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে। বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি থাকবেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, ওইদিন সকাল থেকেই যুবলীগ দক্ষিণের ৫০ হাজার নেতাকর্মী সবুজ গেঞ্জি, টুপি ও সংগঠনের পতাকা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজির হবেন। নিপুন ডিসপ্লের মাধ্যমে সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলা হবে।

এ বিষয়ে ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু বলেন, ১৯ তারিখের মহাসমাবেশ সফল করতে আমরা সব রকমভাবে প্রস্তুত আছি। আমাদের নেতাকর্মীরা উৎসবমুখর পরিবেশে মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও মহাসমাবেশকে সফল ও উৎসবমুখর করতে নিচ্ছেন নানা প্রস্তুতি।

মানবকণ্ঠ/এআর