উন্নয়ন সঙ্কটে ডিএনসিসির নতুন ওয়ার্ড

উন্নয়ন সঙ্কটে ডিএনসিসির নতুন ওয়ার্ড

দেখে বোঝার উপায় নেই এটি ঢাকা সিটির একটি এলাকা। এখনো গ্রাম বা ইউনিয়ন বললে ভুল হবে না। প্রায় তিন বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনো পর্যাপ্ত নাগরিক সেবা পাচ্ছে না উত্তর ঢাকার নতুন ১৮ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। আর সিটি কর্পোরেশনে আসার কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, মশা নিয়ন্ত্রণসহ সিটি কর্পোরেশনের কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না বলে তাদের অভিযোগ। তাদের আশা, চলতি মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর পাশে দাঁড়াবে কেউ, করবে এলাকার উন্নয়ন।

সড়কের বেহাল দশা, জলাবদ্ধতাসহ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা উত্তরের নতুন ১৮টি ওয়ার্ড। কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, সব ধরণের নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত বাসিন্দারা। ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিরা বলছেন অন্তর্ভুক্ত হলেও এখনো এসব এলাকার দায়িত্ব নেয়নি কর্পোরেশন।

দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি হিসাবে দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়নের আয়তন ২২ বর্গ কিলোমিটার। বসবাসকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। এ ইউনিয়নটি ২০১৬ সালের ৯ মে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হলেও এখানে সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সুবিধার ছিটেফোঁটাও মিলছে না। বরং সিটি কর্পোরেশনে আসার কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বাসিন্দারা। রাস্তা সংস্কারসহ সব ধরনের নাগরিক সেবাই স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, নগরীর খুব কাছে দক্ষিণখানের তিনটি ওয়ার্ড। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ড হলেও মেট্রোপলিটান শহরের ছিটেফোঁটাও নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক বাতিসহ সিটি কর্পোরেশনের যে সুবিধাগুলো থাকার কথা তার কোনটিই নেই। তবে সিটি কর্পোরেশনকে বাড়তি কর দিতে হচ্ছে ঠিকই। প্রায় তিন বছর হলো সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এসব এলাকা। নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় এদিকে কারো নজরই পড়েনি। রাস্তাগুলোই যেন ময়লার ভাগাড়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষিলখেত এলাকার লেকসিটির পূর্বপাশ থেকে অর্থাৎ দক্ষিণখান আদর্শ ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত লেক সিটির পূর্ব পাশের কালভার্ট থেকে আশিয়ান হয়ে স্বদেশ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায়। এ সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। কিন্তু ক্ষিলখেতের সঙ্গে যোগাযোগের এটিই একমাত্র সড়ক হওয়ায় বাধ্য হয়েই এলাকার মানুষ সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে। তবে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তবুও এসব দেখার যেন কেউ নেই।

এ ছাড়া ডুমনির রাস্তাটিও খুবই সরু। এই সরু রাস্তায় এক সঙ্গে দুটি গাড়ি চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। নেই পানি সরবরাহ বা পয়ঃনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা। মশা নিধন, নর্দমা পরিষ্কারের মতো সেবা কার্যক্রমের অস্তিত্বই নেই।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ইউনিয়নগুলোর দায়িত্ব এখনো নেয়নি সিটি কর্পোরেশন। এ কারণে সরকারি বরাদ্দও আসছে না। আবার যেহেতু এসব ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত তাই ইউনিয়ন পর্যায়েও উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত: ২০১৭ সালে সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) ৯ মে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে নতুন করে মোট ১৬টি ইউনিয়নকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন পায়। যার মধ্য দিয়ে ঢাকার দুই সিটির আয়তন বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়। ২৮ জুন ঢাকা সিটির আয়তন বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এর পরই উত্তর সিটির আওতায় আসে বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনি ইউনিয়নকে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত আসনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড; ৩৭, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৪ নম্বর; ৪৩, ৪৪ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৫ নম্বর; ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৬ নম্বর; ৪৯, ৫০ ও ৫১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ১৭ নম্বর এবং ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত আসনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড গঠন করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এএম